বাড়ির ছাদে ফুল-ফলের বাগান করে কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন পরিশ্রম নারী ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাড়ির ছাদে ফুল-ফলের বাগান করে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন যশোরের এক পরিশ্রম নারী ফারহানা ইয়াসমিন। ১ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি ব্রোঞ্জ পদক গ্রহণ করেছেন। তিনি যশোর শহরের বকচর মসজিদ পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের স্ত্রী। ২০১২ সাল থেকে তিনি ৯৫০ বর্গফুটের ছাদে ডালিম, বেদানা, কমলা, মাল্টা, থাই পেয়ারা, কৎবেলসহ ২৪০টি ফুল-ফলের গাছ লাগিয়ে চমক সৃষ্টি করেন। যা শুধু দৃষ্টি নন্দনই নয়; এলাকার মানুষের কাছে মডেলও।
তিনি জানিয়েছেন ২৪০টি টবের উপর রয়েছে বিলুপ্ত গাছ নেওয়া, থাই কালো জাম, ডালিম, বেদানা, কমলা, মাল্টা, থাই পেয়ারা, চেরি, কাগজীলেবু, জবা, গোলাপ, বকুল ফুল, শাপল। আছে বারো মাসি আমড়া, বেগুন, ঝালসহ নানা সবজি। এছাড়া পুদিনাপাতা, আদা, অ্যালোভেরা, মেহেদির মত ঔষধি গাছ শোভা পাচ্ছে ছাদে।
ফারহানা ইয়াসমিন পপি জানান, প্রথমে শখের বশে ২০১২ সালে একটা দুইটা করে ফুল-ফলের চারা এনে টবে করে ছাদের উপর লাগানো শুরু করি। এখন ২৪০টি টবে রয়েছে ফুল, ফল, সবজি ও ঔষধি গাছ। দুই সন্তানের জননী ফারাহান নিজের নামেই ‘ফারহানা ফ্রুটস এন্ড ফ্লাওয়ার গার্ডেন’ নাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন বাগান পরিচর্যা করতে তার প্রতিদিন ৪/৫ ঘন্টা কাজ করতে হয়। সকালে তিন ঘন্টা এবং বিকালে দেড়-দুই ঘন্টা কাজ করি। এজন্য তার দুই মেয়ে ও স্বামী আকরাম হোসেন সহযোগিতা করেন। তিনি জানান, ছাদবাগানে উৎপন্ন সবজি ও ফল বিষমুক্ত। নিজেরা খাই, প্রতিবেশীদেরও সামর্থ অনুযায়ী দিই। তাছাড়া কিছু বিক্রিও করি। এ থেকে মাসে ৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জৈব সার ছাড়া বাগানে কোন ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তবে রোগ বালাই দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ফারহানার বাড়ির ছাদের বাগান একটি মডেল। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৩ পেয়েছেন।

SHARE