পুরনো অবকাঠামোতেই যশোর বিমানবন্দর বেড়েছে ফ্লাইট, বাড়েনি সুযোগ সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রায় এক দশকে যশোর বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে যেখানে তিনটি ফ্লাইট ছিল, এখন সেখানে প্রতিদিন উড্ডয়ন ও অবতরণ করছে যাত্রীবাহী বিমানের নয়টি ফ্লাইট। দিন দিন বাড়ছে যাত্রীসংখ্যা। কার্গো বিমানের একাধিক ফ্লাইটও যাতায়াত করছে। তবে সে তুলনায় বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। সেকেলে অবকাঠামো দিয়ে চলছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। ভবনগুলো পুরনো, রানওয়ে পুরনো, রাডার পুরনো, ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি পুরনো, সেকেলে পার্কিং, বাড়েনি যাত্রীদের বসার জায়গা। এভাবেই চলছে দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র বিমানবন্দরটি।
একদিকে মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে সড়কপথে ভোগান্তি বাড়ায় বিমানভ্রমণ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। বাড়ছে রাজস্ব আয়ও। কিন্তু সে তুলনায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ৬২ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিমানবন্দরটিতে। সেই পুরনো ও সংকীর্ণ রানওয়ে দিয়ে বিমান ওঠানামা করছে। ফলে বড় উড়োজাহাজ চলাচল করার সুযোগ নেই। যাত্রীদের বসার জায়গাসহ পার্কিং সমস্যাও প্রকট হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু উন্নয়ন কাজ হয়েছে। আরও কাজ চলছে। শিগগির সংকট কেটে যাবে।
১৯৫৬ সালে ২২৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় যশোর বিমানবন্দর। বর্তমানে ৬২ একর জমি রিজার্ভ রয়েছে। শুরুতে প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানের মাত্র দুটি ফ্লাইট চলাচল করত। এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দিনে নয়টি যাত্রীবাহী বিমান যাওয়া-আসা করে। এর মধ্যে ইউএস বাংলার চারটি, নভোএয়ারের তিনটি এবং বাংলাদেশ বিমান ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি করে ফ্লাইট যশোর-ঢাকা রুটে যাতায়াত করে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, প্রতি বছরই যশোর বিমানবন্দরে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৩৪টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আট মাসে ৬ হাজার ৪৯০টি ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ করেছে। যাত্রী বাড়ছে, ফ্লাইট বাড়ছে কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কোনো লক্ষণ নেই। ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী ও তাদের সঙ্গে লোকজনের বসার জায়গার তীব্র সংকট। দুটি ভিআইপি কক্ষে মাত্র ১২ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। হোল্ডিং লাউঞ্জে ৪০ জন বসতে পারেন। অথচ দিনে প্রায় দুই হাজার যাত্রী চলাচল করেন। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মানুষের আকাশপথে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই বন্দর। থাকে ভিআইপিদেরও চাপ।
রিজেন্ট এয়ারওয়েজ যশোরের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর গুপ্ত সাংবাদিকদের জানান, বিকেলে সমস্যায় পড়তে হয়। এ সময় ছয়টি যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট থাকায় কনকর্স হলে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভিআইপি লাউঞ্জেও একই অবস্থা। এ থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। ব্যাগেজ বেল্টসহ আরও কিছু সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, রিজেন্ট এয়ারের ৭০৭ বোয়িং বিমান থাকলেও সংকীর্ণ রানওয়ের কারণে যশোর-ঢাকা রুটে সেটি পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ইউএস-বাংলা এয়ারওয়েজ যশোরের ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, যশোর-ঢাকা-রুটে এখন সাশ্রয়ী মূল্যে বিমানের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমান চলাচল করছে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের বসার সংকট তীব্র। তা ছাড়া পুরনো রাডারে চলছে যশোর বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এতে পাইলটদেরও সমস্যা হচ্ছে।
যশোর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আলমগীর পাঠান বলেন, সড়কপথে ভোগান্তি, অন্যদিকে মানুষের আয় বাড়ায় বিমানযাত্রার প্রবণতা বেড়েছে। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ২০১৫ সালে কিছু সংস্কার কাজ হয়েছে। কিছু উন্নয়ন কাজ চলমান। শিগগির সংকট কেটে যাবে। তিনি আরও জানান, বন্দরের পরিধি বাড়ানোসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রানওয়ে দুই হাজার ফুট বর্ধিত করা, পার্কিং ব্যবস্থা বাড়ানো এবং টার্মিনাল ভবন বাড়ানো হবে।

SHARE