এবার হয়তো উনি ভাববেন যে আমি পারি: মুশফিক

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিসিবি সভাপতির মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠতেই হাসলেন মুশফিকুর রহিম। হাসির মানে হতে পারে অনেক কিছু। অভিভাবক যখন শিশুসুলভ কথা বলেন, তখন আর কী-ই বা করার থাকে। হতে পারে বোঝাতে চাইলেন সেটি। হতে পারে আচরণবিধির শেকলের কারণে অসহায়ত্বের হাসি। মুখে সেই হাসি রেখেই বললেন, এবার হয়তো বিসিবি প্রধানের ভাবনা বদলাবে!

ত্রিদেশীয় সিরিজে শনিবার ৩৫ বলে ৭২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশকে জেতান মুশফিক। ম্যাচের পরদিন সকালে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “তামিম-সৌম্য যে মারতে পারে, এটা আমাদের জানা ছিল। লিটন যে মারতে পারে, জানা ছিল না। মুশফিক তো না-ই। সত্যি বলতে, মুশফিককে সবার সামনে কালকেও বলেছি, ‘তুমি যে এরকম মারতে পারো, আমি জানিই না!’ গত এক-দেড়-দ্ইু বছর যদি দেখেন, মুশফিক ছয় মারতে গেলে বাউন্ডারিতে আউট হয়। আমি সবসময় বলি যে ও ছয় মারার খেলোয়াড় না।”

অথচ বাংলাদেশের হয়ে নিয়মিত বড় শট খেলতে পারেন হাতে গোনা যে কজন, মুশফিক তাদের অন্যতম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মেরেছেন ১১৭ ছক্কা, বাংলাদেশের হয়ে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বোর্ড সভাপতির মন্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে তুমুল। সোমবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশের অনুশীলনের আগে মুশফিকের কাছে জানতে চাওয়া হলো বোর্ড প্রধানের মন্তব্য নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া। মুশফিকের হাসিতে ফুটে উঠল অনেক কথা। সে সবের কিছু উঠে এল কণ্ঠেও।

“এই ইনিংসের পর হয়ত উনি ভাববেন যে আমি পারি, আলহামদুলিল্লাহ। হয়তো উনি অন্যরকমভাবে আমার খেলা দেখেছেন। গত ২-৩ মাস আমরা যতটা কঠোর পরিশ্রম করেছি, সেটার ফল মিললে একটা ভালো লাগা থাকেই। হয়তো অনুশীলন উনি দেখেননি। ম্যাচে সেটা কাজে লেগেছে। তো দেখা যাকৃ।”

তার সামর্থ্য নিয়ে বোর্ড প্রধানের সংশয় থাকলেও নিজেকে নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না মুশফিকের।

“নিজের ওপর বিশ্বাস থাকতে হয়। নিজের ওপর বিশ্বাসটা না থাকলে কেউ ভালো করতে পারবে না। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। যে কোনো ব্যাটসম্যান এ রকম একটা ইনিংস খেলবে, এটাই স্বাভাবিক। সেটা আমি পেরেছি বলে খুশি।”

SHARE