জয়ের পথ চলার বাঁকে বাঁকে যেমন ছিল ড্রেসিং রুম

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিস্ফোরক শুরু। একটু পা হড়কানো। আবার শক্ত পায়ে ছুটে চলা। শেষে খানিকটা শঙ্কা। আনন্দময় সমাপ্তি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুল এই জয়ের পথচলার বাঁকে বাঁকে কেমন ছিল বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের পরিবেশ? সেই গল্প শোনাচ্ছেন তামিম ইকবাল।
লক্ষ্য ২১৫। নিজেদের রান তাড়ার ইতিহাস নতুন করে লিখেও এগিয়ে যেতে হবে আরও অনেক দূর। দুইশর অদেখা ভুবনে এদিন প্রবেশ করতেই হবে। অথচ শরীরে দুঃসময়ের থাবা। বাংলাদেশের দলের জন্য এর চেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ আর কী হতে পারে!

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম শুনিয়ে গেছেন বিশ্বাসের কথা। ইনিংস বিরতিতে নাকি দলের সবার বিশ্বাস ছিল, জিততে পারে দল। কিন্তু বিশ্বাসের এই কথা কেমন যেন অবিশ্বাস্য মনে হয়। সংবাদ সম্মেলনের পরও তাই কাছে গিয়ে আরেকবার জিজ্ঞেস করা, সত্যি জয়ের বিশ্বাস ছিল দলের?

তামিম এবার হাসেন, “কিভাবে বিশ্বাস করাই যে সত্যিই বিশ্বাস ছিল আমাদের! যখন আমাদের রান তাড়ার পথগুলো নিয়ে আলোচনা করছিলাম, সবার চোখে-মুখে আমি আত্মবিশ্বাসই দেখেছি। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি আর লিটন উইকেটে গিয়েছি।”

তামিম আর লিটন কুমার দাস যেভাবে ব্যাট করেছেন, তাতে বিশ্বাস আরও জোড়ালো হওয়ার কথা। কিন্তু যখন ড্রেসিং রুমে ফিরলেন তামিম, তখন কেমন ছিল সাজঘর আর ডাগআউটের হাওয়া?

তামিমের আগে ফিরে গেছেন লিটনও। বিস্ফোরক শুরু এনে দেওয়া দুই ওপেনারকে হারানোর পর বিশ্বাসে চিড় ধরারই কথা। তামিম শোনালেন অন্য কথা।

“তখনও বিশ্বাস হারাইনি আমরা। আমি আর লিটন মিলে প্রথম শর্ত পূরণ করেছিলাম। জানতাম, এরপর এটা শুধু ধরে রাখার ব্যাপার। সৌম্য ছিল, মুশফিক যেভাবে খেলছিল, আমরা তো ঠিক পথেই ছিলাম।”

রান তাড়ায় বাংলাদেশ দল এমন ভাবে বুঁদ হয়ে গিয়েছিল, সবাই যেন ছিল ধ্যানমগ্ন। কোচিং স্টাফদের ব্যস্ততারও প্রয়োজন হয়নি কোনো।

“আমরা সবাই জানতাম নিজেকের কাজটা কী। বাইরে থেকে তাই খুব বেশি পরামর্শ পাঠাতে হয়নি। ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগেও কাউকে তেমন কিছু বলতে হয়নি। মাঠে গিয়ে কি করতে হবে, এটা সবার মাথায় সেট হয়ে গিয়েছিল।”

“আমরা যে যার জায়গায় বসে ছিলাম। রান হচ্ছিলো, তাই বলে দিয়েছিলাম যে ‘খবরদার, এক জায়গা থেকে নড়া যাবে না।’ চুপচাপই ছিলাম বেশিরভাগ সময়। আমাদের বেশিরভাগ কথা হচ্ছিল চোখে চোখে, সবাই যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ক্যালকুলেট করছিলাম।”

এরপরও যে একটু অস্থিরতা, একটু শঙ্কা পেয়ে বসেনি, তা নয়। দুটি সময়ের কথা আলাদা করে বললেন তামিম।

“৫ ওভারে যখন ৫৮ দরকার, ওই ওভারে প্রথম ৫ বলে বাউন্ডারি হলো না। কিন্তু এর পর নো বলে রিয়াদ ভাই ছক্কা মারলেন, ফ্রি হিটে চার। তখনই বড় চাপটা সরে গেছে। আমরা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাই।”

“রিয়াদ ভাই ও সাব্বির পরপর আউট হওয়ার পর আবার একটি অস্বস্তি ছিল। শেষের আগের ওভারে প্রদিপের বলে মুশফিকের ছক্কায় শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যাই যে ম্যাচ আমাদের। সবার চাওয়া ছিল শেষ ওভারে যেন রান কম রাখা যায়।”

একদম শেষ সময়েও শেষের আগে শেষ নয় বলে অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। তবে নতুনরা বাউন্ডারি ঘেঁষে দাঁড়িয়ে যান জয়ের পর মাঠে ছুটতে।

“আমরা জানতাম শেষের আগে শেষ নয়। অনেকবারই ভুগতে হয়েছে আমাদের। তবে নতুনরা দারুণ উত্তেজিত ছিল তখন। ওদের রোমাঞ্চটাই ছিল বেশি দেখার মতো। পরে জয়ের পর মুশফিকের উদযাপন দেখেও সবার জয়ের আনন্দ বেড়ে গেছে।”

সবশেষে তামিম আবার বললেন সেই শুরুর কথা, বিশ্বাস!

“লক্ষ্য বড় থাকলে অনেক সময় তা ইতিবাচকভাবে কাজ করে। জানা থাকে, একটা কিছু করতেই হবে। এই প্রতিজ্ঞা থেকেই একটা বিশ্বাস জন্ম নেয়। আজ যেমন ছিল। বিশ্বাস না থাকলে এমন জয় সম্ভব ছিল না।”

SHARE