জাতিগত নিধনের প্রমাণ চায় মিয়ানমার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগের সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখতে চেয়েছে মিয়ানমার।
জেনেভায় বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “রাখাইনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশিভাগ এখনও সেখানেই বসবাস করছে। যদি সেখানে গণহত্যাই চালানো হত তবে তারা সবাই পালিয়ে যেত।”
গত বছর অগাস্টে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে সেনা অভিযান শুরু হয়।
গত ছয় মাসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসাইন বলেছিলেন, রাখাইনে সেনাঅভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে অভিযোগ উঠার পরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি করেছে।
“আমার দৃঢ় সন্দেহ সেখানে গণহত্যা হয়েছে।”
রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে জনশূন্য হয়ে পড়া রোহিঙ্গা গ্রামগুলো বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে জেইদ বলেন, “গণকবর নিশ্চিহ্ন করতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালানোর খবরে মনে হচ্ছে, মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করে বুলডোজার চালিয়েছে।”
যদিও মিয়ানমার সরকারের দাবি, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়েছে।
তুন বলেন, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ খুবই গুরুতর এবং এটা হাল্কা ভাবে নেওয়া উচিত হবে না।
“সেখানে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে রায় দেওয়ার আগে আমাদের উচিত আসলেই কি হয়েছে সেটা দেখে নেওয়া।”
যদিও এই দেখে নেওয়ার সুযোগ মিয়ানমার সরকারই দিচ্ছে না। তারা এমনকি জাতিসংঘের তদন্ত দলকেও এখনও রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেওয়া রাখাইন শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন। আগামী সোমবার দলটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে।

SHARE