সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রের

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরা শহরে সন্ত্রাসীদের হামলায় স্কুল ছাত্র নাজমুল সাকিব (১৬) নিহত হয়েছে । এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার এক সহপাঠী। নিহত সাকিব একজন পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। আহত স্কুল ছাত্র রাশেদকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি নিহত সাকিবের প্রধান ঘাতককে সনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনস স্কুলের ১০ম শ্রেণির ৩ ছাত্র নাজমুল সাকিব, আবু রাশেদ ও শামীমউজ্জামান অমি শহরের অদুরে বকচরায় ওয়াজ মাহফিল শুনতে গিয়েছিল। সেখানে তাদের সাথে কামাননগর কলোনির কাদের ও শান্তর সাথে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ৩ বন্ধু ফিরে আসার সময় বাইপাস রোডের ধারে আসা মাত্র পেছন দিক থেকে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালানো হয়। এলোপাতাড়ি মারপিটে অমি আত্মরক্ষার্থে দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও সাকিব ও রাশেদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় কে বা কারা সাকিবকে মৃত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, নিহত সাকিবের সাথে তার সহপাঠী কামাননগর গ্রামের মাহিয়া নামের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের চিহ্ণিত করার চেষ্টা চলছে। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হচ্ছে শহরের কামাননগরের হাফিজুল ইসলাম (৬০), মেহেদি হাসান ফয়সল (১৫) , শামীমুজ্জামান অমি (১৪), যুবায়ের হোসেন (১৮), রনি (১৮) ও শাহিনুর (২৪) এবং ইটাগাছার আবু হাসান (৩৮)। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত অবস্থায় আটক অমি বুধবার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বিবরন জানিয়েছে।
ওসি জানান, নিহত সাকিবের বাবা পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলাম কলারোয়া উপজেলার সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার ব্রম্মগাতি গ্রামে। ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আহত রাশেদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল আবদুল আজিজের ছেলে বলে জানান তিনি।

SHARE