শিক্ষক বদলিতে যুগান্তকারী উদ্যোগ
ঘুষ ও ভোগান্তি ছাড়াই বদলি হয়েছেন যশোরের ৪০ স্কুলের শিক্ষক

দেবু মল্লিক
যশোর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলিতে হয়রানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের আবেদনের ভিত্তিতে গতকাল সদর উপজেলা পরিষদে এক ওপেন সভায় প্রথম দিন ৪০ স্কুলের শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি মাসের মধ্যে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ করা হবে। শিক্ষদের হয়রানি বন্ধ ও স্বচ্ছতা আনতে এই উন্মুক্ত পদ্ধিতে বদলির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। যিনি পদাধিকার বলে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি।

সভা সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা বর্ষের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সাধারণত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চলে। তবে বদলি নিয়ে শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই বদলির জন্য অনেকক্ষেত্রে শিক্ষকদের সময় অপচয়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হতে হয়। অনেকে বদলি বাণিজ্যের শিকার হন। তাই শিক্ষকদের এই সমস্যা সমাধানে যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এবার উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে শিক্ষক বদলির উদ্যোগ নেন। এজন্য সদর উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবেদন নিয়ে গতকাল উপজেলা পরিষদে এক উন্মুক্ত সভা আহবান করা হয়। যেখানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিন উপজেলার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সমাধান করা হয়।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘পত্রিকার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষক বদলির নামে বাণিজ্যের খবর আমি জানতে পারি। আমাদের যশোরেও শিক্ষক হয়রানির কম বেশি অভিযোগ ছিলো। তাই শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে  আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমান সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সব কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে। এজন্য আমরা শিক্ষক বদলির জন্য যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলতি মাসের মধ্যে শিক্ষকদের সব আবেদনের সমাধান করা হবে।’

SHARE