ভালবাসার দিনে যশোরের তরণ তরুণীদের অন্যরকম ভালবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে/ আমার নামটি লিখো- তোমার মনের মন্দিরে’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানেই যেনো মনের মাঝে ভলোবাসার মানুষটিকে খুঁজে পেতে মেতে যশোরের তরুণ-তরুণীরা। গতকাল ভালোবাসা দিবসে বিনোদন কেন্দ্র-সিনেমা হল ও পার্কে দেখা গিয়েছিলো ভিড়। অধিকাংশ তরুণীরা সেজেছিলেন লাল শাড়ি অথবা কামিজে। তরুণেরা লাল পাঞ্জাবি ও সাদা পাজামায়। শুধু তাই নয়, দিনটিকে ঘিরে যশোরে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছিলো আহাদ রেড ক্রিসেন্ট রক্ত কেন্দ্র, থ্যালাসেমিয়া সমিতিসহ অন্যান্য সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারা রক্ত দিয়ে রাঙিয়ে তুললেন ভালোবাসা দিবসকে।
এদিকে ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ‘রঙধনু ফাউন্ডেশন যশোর’ অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে ‘ভালোবাসা হোক সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যশোর পৌর পার্কের গোল চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫০ জন অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে পোশাক, খাবার, চকলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া লেখাপড়া করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ভারগ্রহণের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু।
পৌর উদ্যানের খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্প বসিয়ে বুধবার সকাল ৯টায় শুরু হয় রক্তদান উৎসব। বেলা ১২টায় রক্তদান উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। এ সময় তিনি বলেন, ‘রক্তদানে অনেকে ভয় পান। আমি অভয় দিচ্ছি কোন ভয় নেই। কারণ আমি নিজেই ৮৬ বার রক্তদান করেছি।’ তিনি বলেন, ‘রক্তদান করলে যেমন নিজের শরীর ভাল থাকে, তেমনি অপরের জীবনও বাঁচানো যায়। মানুষের জন্য, নিজের জন্য রক্তদান করার উপযুক্ত বয়সীদের আহবান জানান তিনি।
দিনব্যাপী কর্মসূচির বিভিন্ন সময়ে উৎসবে সামিল হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইসহক, বাংলাদেশের ওয়ার্কর্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুণ অর রশীদ, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিরাপদ দত্ত, দীপংকর দাস রতন, রশেন আরা রাসু, যোগেশ দত্ত, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) নির্বাহী সদস্য প্রণব দাস গণ্যমান্য ব্যক্তিবগ।
বক্তারা বলেন, ‘নিয়মিত রক্তদান করি। রক্তদানের মত মহৎ কাজ আর নেই। তাই এ উৎসবকে উপলক্ষ্য করে প্রতিবছরের মত এবারও ভালবাসা দিবসে রক্তদান করছি। আমার রক্তের অন্যের জীবন বাঁচবে, এতে আমার কোন ক্ষতি নেই। রক্তদান করলে নিজের শরীরও ভাল থাকে। মানুষের প্রতি ভালবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করতে রক্তদানের বিকল্প নেই।’
রক্তদান উৎসবের আহ্বায়ক গোপাল বিশ্বাস বলেন, রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রতিবছর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে রক্তদান উৎসবের আয়োজন করা হয়। পাঁচটি সংগঠনের উদ্যোগে উৎসবের আয়োজন করা হলেও অন্তত ১৩টি রক্তদান সংগঠন আমাদের নানা সহযোগিতা করছে। এ উৎসবে প্রতি বছর অন্তত একশ’ জনের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। মানুষ দিন দিন রক্তদানে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
রক্তদান উৎসবের সদস্য সচিব অজয় দত্ত বলেন, ভালবাসা দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে রক্তদান উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাত বছর এই আয়োজনে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
এবছর বিভিন্ন গ্রুপের প্রায় ১শ’ জন রক্তদান করেছেন বলে তিনি জানান। বিকেলে ‘রোগী ও রক্তদান’ শীর্ষক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশ গ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এছাড়া বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকে রাত অবধি শহরে তরুণ তরুণীদের ভিড় ছিলো লক্ষণীয়। তরুণীরা মাথায় ফুলের মুকুট পড়ে সেজেছিলেন।