গ্রামীণ ব্যাংকের হাজিরা ভিত্তিতে কর্মচারীদের ডিউটি ২৪ ঘন্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গ্রামীণ ব্যাংকের শার্শার ডিহি শাখায় দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে সাত বছর চাকরি করেছেন মামুন হোসেন। ব্যাংক পরিচালনা নিয়ম অনুয়ায়ী নিয়োগের ৯ মাস পর মামুন হোসেনের চাকরি স্থায়ী হওয়ার কথা। কিন্তু মামুনের চাকরি সাত বছরে স্থায়ী তো হয়নি, উল্টো ২০১৪ সালে তাকে চাকরি থেকে বরখান্ত করা হয়। এই দীর্ঘ সময় চাকরি করে তাকে কর্মস্থল থেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। একইভাবে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর শাখা থেকে শুন্য হাতে আট বছরের চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয় ফুলজার হোসেনকে।
শুধু মামুন হোসেন বা ফুলজার হোসেন নয়, গ্রামীণ ব্যাংকে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারি হিসেবে দেশের তিন হাজার কর্মচারি সব সময় চাকরি হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বড় কর্মকর্তার মর্জিতেই যে কোন সময় তাদের চাকরি চলে যায়। যারা অফিস শুরুর আগে সুইপারের, পরে অফিস সহকারী ও রাতে নাইট গার্ডের কাজ করছেন। সেই হিসেবে এসব কর্মচারীরা দিনের ২৪ ঘন্টাই দায়িত্ব পালন করেন। যশোর জেলায় রয়েছেন এমন ৯০ জন কর্মচারী। তবে এমন অমানবিক কর্মের প্রতিবাদ করলেই চাকরিচ্যুত হতে হয়। আবার অনেক সময় বদলি করা হয় অন্যত্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোরের এমন একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন, তাদের অফিস ঝাড়–, টয়লেট পরিস্কার, কর্মকর্তাদের বাজার করার মতো কাজ তাদের প্রতিদিন করতে হয়। এজন্য তাদের কোন ছুটি নেই। শারীরিক অসুস্থ্যতা, বাবা, মা বা কোন আত্মীয় মারা গেলে অবৈতনিক ছুটি নিতে হয় তাদের। বাৎসরিক কোন উৎসব ভাতা নেই। চাকরি জীবন ১০ বছর পার করার পর অবসরে গেলে এক লাখ টাকা এককালীন দেওয়ার কথা। কিন্তু এই টাকা না দেওয়ার জন্য কৌশল তার আগেই এসব কর্মচারীদের ছাটাই করে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সারাদেশে এক হাজারের বেশি কর্মচারীকে এই কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ব্যাংকের এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ২০১৭ সালে একবার মানবন্ধন করায় কয়েকজনকে বদলি করা হয়।
গ্রামীণ ব্যাংক চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আজিজুল হক বাবুল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী চাকরির বয়স ৯ মাস হলে তা স্থায়ী হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের কৌশলে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগপত্র না দিয়ে যোগদানের অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছে। দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরি দিয়ে ২৪ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট রিপোর্টে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও মজুরি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি অমানবিক বলে উল্লেখ করেছে। আমরা সমস্যা সমাধানে শ্রম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমরা আন্দোলনে নামবো।’