বিক্ষোভ সমাবেশে অচলাবস্থায় বাগেরহাট মেরিন ইন্সটিটিউট

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বৈটপুর এলাকায় অবস্থিত ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি। অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ এনে গত রোববার রাত থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও ইন্সটিটিউটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ ও ক্যাম্পাস চত্বরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এদিকে ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ইন্সটিটিউটের অন্যান্য শিক্ষকরা। তারাও অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের অপসারণ দাবি করে শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইন্সটিটিউটের একাধিক শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষের অনিয়ম দুর্নীতির কারনে হোস্টেলের রুমে ভাড়ার বিনিময়ে বহিরাগত লোকদের রাখা হয়। ইন্সটিটিউটে গ্যাস বাবদ ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বাৎসরিক বাজেট থাকা সত্বেও অধ্যক্ষ জোর করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গ্যাস বিল দিচ্ছে। ইন্সটিটিউটে পানির প্লান্ট সম্পূর্ণ হওয়া সত্বেও দুর্নীতির কারনে ছাত্র/ছাত্রীরা খাবার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইন্সটিটিউটে ক্লিনার নিয়োগ আছে এবং তার বেতন-ভাতা প্রিন্সিপাল কর্তৃক উত্তোলন করা হলেও ক্লিনার পদে কোন লোক নেই। এমন আরো অনেক বিষয় আছে যা এতদিন সবাই মুখ বুজে সহ্য করেছেন। তাই অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বাধ্য হয়ে সবাই বিক্ষাভ ও প্রতিবাদ শুরু করেছে। শিক্ষার্থী বাপ্পি সাহেব বলেন, অধ্যক্ষের অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গা ঢাকা দেয়া অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বাগেরহাটে ফিরলেও ইন্সটিটিউটে প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষসহ শহরের প্রভাবশালী নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আপসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন, পরে কথা হবে বলে ফোনটি কেটে দেন।

SHARE