তিন উৎসবে ৪৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা বেনাপোলের ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের

এমএ রহিম, বেনাপোল ॥ মাত্র একদিন পর ১৩ ফেব্রয়ারি বাঙালির বসন্ত বরন ১ ফাল্গুন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস ভ্যালেনটাইন ডে ও ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস। এই তিন উৎসবকে ঘিরে বেশী লাভের আশায় ফুলের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষী ও ব্যবসায়িরা। শার্শা-বেনাপোলে উৎপাদিত ফুল রফতানি হচ্ছে গদখালি ঢাকা চিটাগাংসহ বিভিন্ন জেলা শহরে লাভবান হচ্ছেন তারা। বাড়ছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম। এবার ৪৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন যশোরের ব্যবসায়িরা।
খুলনার আবির হোসেন, লাকী বেগম ও বাড়আঁচড়ার আসানুর রহমান জানান, ভালবাসা দিবসের ফুল কিনতে এসে কমদামে ফুল পেয়ে খুশি আমরা। বিস্তৃণ মাঠ ও বাজারজুড়ে বিভিন্ন ফুলের সমারোহ দেখেও মুগ্ধ। ফুলের মৌ মৌ গন্ধে পুলকিত তারা। ফুল ও ভালবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই বিশ্বের দরবারে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা আরো বলেন যশোরের শার্শা বেনাপোল গদখালি নিজামপুর, উলাশি, নতুনহাট, চৌগাছা, পানিসারাসহ বিভিন্ন এলাকায় হচেছ উন্নত জাতের চাষ। এবার উৎপাদন ভাল হওয়ায় দাম অনেকটা নাগালের মধ্যে বলে জানান তারা। আধুনিকতার এ যুগে বিভিন্ন উৎসব আনুষ্ঠানিকতায় ফুলের কদর ও চাহিদা রয়েছে সর্বত্রই। তাই ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালিসহ শার্শা ও বেনাপোলে বাড়ছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, জিপসি, ক্যালেন্ডুলা, ডালিয়া, লিলিয়াম, চন্দ্র মল্লিকাসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ। উচ্চ মূল্যের ফসল হিসাবে ফুলচাষে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।
ফুল ব্যবসায়ি এমদাদদুল হক, আরমান আলী ও ইলিয়াজ হোসেন জানান, এখন ফুসরত নেই তাদের। খুচরা ও পাইকারী ক্রেতার সমাগম বাড়ছে। স্থানীয় ফুল রফতানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে। যশোরে উৎপাদিত ফুল এলাকার চাহিদা মিটিয়েও দেশের ৭০% চাহিদা মিটানো হয়। দাম ক্রেতা বিক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই বলে জানান তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার জানান, উচ্চ মূল্যের ফসল হিসাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের ফুল চাষে প্রশিক্ষণ পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে। এ অঞ্চলে শতাধিক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে দেশি বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ হয়েছে। এখন তিন উৎসবকে ঘিরে ফুল চাষিদের কাটছে ব্যস্ত সময়।

SHARE