ক্ষুধা-দারিদ্র্য নির্মূলে উন্নয়ন সহযোগীদের আরেকটু উদারতা চান শেখ হাসিনা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের আরেকটু উদারতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার ইতালির রাজধানীর রোমে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (আইএফএডি) ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনের মূল প্রবন্ধে এ আহ্বান জানান তিনি।
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৯০০ কোটি ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এই জনসংখ্যার অর্ধেক হবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিভুক্ত। অপরদিকে বিশ্বে চাষযোগ্য ভূমি, বনভূমি ও ব্যবহার উপযোগী পানি কমে যাবে ব্যাপকভাবে।
“২০৫০ সালে বিশ্বে খাদ্যের চাহিদা ২০০৬ সালের তুলনায় অন্তত ৬০ শতাংশ বাড়বে। খাদ্যপণ্যের দামও ৪৮ শতাংশের মতো বাড়বে।”
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পদ্ধতি কী হবে, সেই আলোচনায় বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে ‘স্থিতিশীল সরকার’ থাকাকে সৌভাগ্যের মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা প্রায় চার বছর ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির কৌশল প্রণয়ন করেছি।
“এবং তারপর গত নয় বছর ধরে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে পারিপার্শ্বিক চাহিদা ও প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রেখে তাতে সংযোজন-বিয়োজন করেছি।”
এই পদ্ধতিতে গত নয় বছরে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ৯০ লাখ টন বেড়ে এখন তিন কোটি ৯০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সেজন্য বিশ্বব্যাপী ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটা অর্জন করা যাবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্য তাড়াতে উন্নয়ন সহযোগীদের আর একটু ‘উদার’ হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
‘ফ্রাজিলিটি টু লং টার্ম রেসিলেন্স: ইনভেস্ট ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনোমি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আইএফএডির এই অধিবেশন বসে।
বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আইএফএডি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আইএফএডির সহায়তা ও সহযোগিতার মডেল জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা থেকে অনেক ভিন্ন।
তাদের এই মডেলকে ‘আদর্শ’ অভিহিত করে ভবিষ্যতেও তা যেন এভাবে কাজ করে সে প্রত্যাশা জানান বাংলাদেশের সরকার প্রধান
সকালে প্রধানমন্ত্রী রোমে আইএফএডির সদর দপ্তরে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হংবোর স্বাগত বক্তব্যের পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত আর্থিক সংস্থা হিসেবে আইএফএডি প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি মূলত কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাজ করে।
প্রতিষ্ঠার পর আইএফএডির প্রথম প্রকল্পটি ছিল বাংলাদেশে, যা ১৯৭৮ সালে নেওয়া হয়। সংস্থাটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে প্রায় ৭৮২ মিলিয়ন ডলারের অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণ দিয়েছে।