ঋতুরাজের আগমনে মেতেছিল যশোর ফাগুনের সাজে সাজতে ফুলের দোকানে তরুণ-তরুণীরা

তুষার আহসান
‘ফুল ফুটুক না ফুটুক-আজ বসন্ত/ শান বাঁধানো ফুটপাতে/পাথরে পা ডুবিয়ে/এক কাঠ-খোট্টা গাছ/কচি কচি পাতায়/ পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে/ ফুল ফুটুক../ ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত’- কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই বসন্ত ছিল গতকাল। ঋতুরাজের আগমনে মেতেছিল তরুণ-তরুণীরা। ফুলের মুকুট আর মালা শোভা বাড়িয়েছিলো সাজ পোশাকে। বসন্ত উৎসবে যশোরের ফুলের দোকানীরাও নানান ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। বেচাকেনা চলেছে রাত অবধি।
বসন্তের প্রথম দিনে বাঙালি নারী ও তরুণীরা বাসন্তী রঙের শাড়ি কিংবা থ্রিপিসে সেজেছিলেন। কপালের লাল টিপ যেনো ফাগুনের আগুন রাঙা সূর্য। তরুণেরা পরেছিলো হলুদ রঙের পাঞ্জাবি, ফতুয়া। বসন্তের প্রথম দিনে মঙ্গলবার ভালোবাসার মানুষটির হাতে দিয়েছিলো ফুল। ফুলের রানী খ্যাত যশোর ঝিকরগাছার গদখালি থেকে আসা শহরে ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার শহরের বসন্ত উৎসব ছিলো জমজমাট বলে দাবি তাদের। তবে ‘ ফুলের দাম একটু বেশিই ছিলো’ বলে জানান যশোর গাড়িখানার সূর্যমুখী ফুলঘরের সত্বাধিকারী হারুণ আর রশীদ ও শাপলা পুষ্প ঘরের সত্বাধিকারী বাবলু অধিকারী। গতকাল সকালে গাড়িখানা ও দড়াটানা এলাকায় ফুলের দোকানগুলোতে ফুলের মুকুটের চাহিদা ছিলো সব থেকে বেশি। বিক্রি হয়েছে দেড়শ টাকা পর্যন্ত। ভালো মানের একটি গোলাপ বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের রজনীগন্ধার কুড়ি দিয়ে বানানো মালা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ১০০টাকা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পরে সব ফুলেরই দাম কমতে থাকে। তখন গোলাপ ১০-১২টাকা, গাঁদা ফুলের শ’ ২০-২৫ টাকা, গ্লাডিওলাসের স্টিক ১০টাকা, রজনীগন্ধা ১২-১৫ টাকা এবং জারবেরা ১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। জিপসি ফুলের আঁটি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে বাঙালি সংস্কৃতির উৎসব-ঐতিহ্যের এই দিনটিকে সরকারিভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন উৎসব মুখর তরুণ-তরুণীরা। মাথায় ফুলের মুকুট আর বাসন্তি সাজে উৎসবে মেতেছিলেন যশোর এমএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী লাম ইয়া। সাথেই ছিলেন একই কলেজের ইংরেজি বিভাগের সুমাইয়া খাতুন। তারা জানান, ‘বাঙালি উৎসব-ঐতিহ্যের মধ্যে বসন্ত উৎসব অন্যতম। দিনটিতে খুব মজা করে ঘুরেছি। বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিয়েছি।’ শিক্ষার্থী রুনা খাতুন, সাথী খাতুন, সীমা বিশ্বাস জানান, ‘শহরের টাউন হল মাঠে বসন্তের গান শুনে ভালো লেগেছে। বাঙালি ঐতিহ্যের এই দিনটি সরকারিভাবে পালন হওয়া উচিৎ।’

SHARE