শালিখার গঙ্গারামপুর হাঁড়েল খালের সরকারি গাছ কর্তনের মহোৎসব

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি॥ মাগুরার শালিখা উপজেলার ৭নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের খাটর রামানন্দকাটি গ্রামের সুই তলা পাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হাঁড়েল খালের দু-পাশের সরকারি গাছ কর্তনের যেন মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শতাধিক গাছ কর্তন করা হয়। যার মুল্য লক্ষাধিক টাকা। গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সরকারি গাছ কর্তনের বাস্তব চিত্র। খালের দু-পাশ থেকে বড় মোটা বাবলা গাছ ৩৩টি, খয়েবাবলা ২টি, ভুতনীম ১টি, খেজুর গাছ ১৭টিসহ শতাধিক গাছ কর্তন করা হয়েছে। এসব গাছ কর্তন করে (ঢাকা মেট্র-ট, ১৪৯১৭৭) ট্রাকে বোঝাই করতে দেখা যায়। গাছ কোথায় যাচ্ছে ড্রাইভার শ্যামল কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছগুলো পশ্চিমা গ্রামের মৃত হাকিম বিশ্বাসের ছেলে সাক্কার বিশ্বাসের নিকট বিক্রি হয়েছে। গাছ কোথায় যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব গাছ মেহেরপুর ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে ঐ এলাকার তুষার, বিল্লাল, ফসিয়ার, শামিম, বাকু, হাকিমসহ আরো অনেকেই জানায়, মৃত মিরজান মোল্যার ছেলে আজম মোল্যা, মহন মোল্যা ও একই এলাকার নুরোল মোল্যার ছেলে বদর মোল্যা ও জাহিদ মোল্যা এসব গাছ দিনে দুপুরে কর্তন করিয়ে বিক্রি করছেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত বদর মোল্যার বাড়ী গিয়ে কাউকে না পেলেও তার ছোট ভাই বুলবুল মোল্যার কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমার বড় ভাই বদর মোল্যাসহ কয়েকজন এই গাছ গুলো বিক্রি করেছেন। অপর অভিযুক্ত মহন মাষ্টারের বাড়ী গিয়ে তাকে না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, গাছ গুলো আমি বিক্রি করেনি তবে আমার ভাই আজম মোল্যা বিক্রি করতে পারে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ এই খালের পাশ থেকে লাখ লাখ টাকার গাছ কাটা হয়েছে। যেন দেখার কেউ নেই। আমরা প্রানের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা। এব্যাপারে ঐ গ্রামের ইউপি সদস্য লিটনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যারা সরকারি গাছ কর্তন করেছেন তারা আমার আত্মীয় স্বজন। আপনারা রিপোর্ট লিখলে কিছু হবে না। এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

SHARE