যশোরে এনজিও পরিচালক ভিকু খুনের রহস্য উদঘাটনে মাঠে সিআইডি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চাঞ্চল্যকর গোলাম কুদ্দুস ভিকু খুনের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে সিআইডি পুলিশ। এ হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত একই সংস্থার ম্যানেজার বাহার আলী অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে বর্তমানে কারাগারে আটক থাকলেও হত্যা রহস্যা অনুদঘাটিত রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর সি-ব্লকে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু। এ হত্যাকা- নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চাল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ধারণা নিহতের তৃতীয় স্ত্রী আমেনা খাতুন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাহার আলী পরস্পর যোগসাজসে ভাড়াটে খুনি দিয়ে গোলাম কুদ্দুস ভিকুকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ঘটনার রাতেই পুলিশ আলোচনায় উঠে আসা তার তৃতীয় স্ত্রী আমেনা খাতুনকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নস্তি কামারপাড়ার পিতার বাড়ি থেকে আটক করায় প্রধান অভিযুক্ত বাহার আলী ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, বাহার আলী প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। এ টাকার হিসাব চাওয়ায় গোলাম কুদ্দুস ভিকুকে হত্যা করা হতে পারে। অপরদিকে তৃতীয় স্ত্রী আমেনা খাতুনের সাথে দাম্পত্যজীবনে বিরোধের সৃষ্টি হওয়ায় তিনি ভিকুর বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করেছেন। স্বামীকে শায়েস্তা করতে এ হত্যাকা-ে বাহার আলীর সাথে হাত মিলিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও আমেনা খাতুন রিমান্ডে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে গোলাম কুদ্দুস হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। উল্টো তার অভিযোগ, গোলাম কুদ্দুস ভিকুর দ্বারা তিনি নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অপরদিকে এ হত্যাকা-ে নিহতের পঞ্চম স্ত্রী শারমিন আক্তার লাকী বাদী হয়ে যে মামলা করেছেন তাতে বাহার আলী ও আমেনা খাতুন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমানকে ও আসামি করা হয়। পুলিশ মাসুদুর রহমানকেও আটক করে তার কাছ থেকে হত্যাকা-ের বিষয়ে কোন তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। প্রথমে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সৈয়দ আলমগীর হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশ গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যা মামলাকে পুঁজি করে অর্থ বাণিজ্য করেছেন।
সূত্র আরো জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে এ মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন-অর-রশিদ মামলাটি তদন্তে মাঠে নেমেছেন।
এ ব্যাপারে হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, প্রধান অভিযুক্ত বাহার আলী গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের আদালতে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলে বিচারক জেলগেটে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে বাহার আলীর কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবেনা বলেও তিনি জানান। এ কারণে ফের তিনি আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানাবেন।