বিএনপির শীর্ষ নেতারা যশোরে নেই খালেদার মুক্তি আন্দোলন গতিহীন

দেবু মল্লিক:
যশোরে রয়েছে বিএনপির একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা। যাদের অনেকে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। কিন্তু তাদের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে নেই তারা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকার পরেও স্থানীয় আন্দোলনে ভূমিকা না রেখে তাদের অধিকাংশ অবস্থান করছেন ঢাকায়। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী যশোরের এমন দুইজন এখন আছেন দেশের বাইরে। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পদ দখলে থাকা এসব নেতারা এলাকায় না থাকায় অনেককর্মী ভয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। তারা মনে করছেন ‘গা বাঁচাতে’ শীর্ষ নেতারা আন্দোলন শুরুর আগেই যশোর ছেড়েছেন। যার প্রভাব পড়ছে তৃণমূলে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’র টাকা আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেন আদালত। একই মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরো পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এই রায় ঘোষণার পর দলটির শীর্ষ নেতারা পরদিন শুক্রবার ও শনিবার সারাদেশে দুইদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে এই আন্দোলন ঘোষণার আগেই যশোর ছেড়ে চলে যান জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতারা। যাদের মধ্যে রয়েছেন বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক প্রকৌশলী টিএস আইয়ুব, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, অভয়নগর উপজেলার সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান, চমন আরা বেগম, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নি ও জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ফিরোজা বুলবুল কলি। এরা সবাই একই সাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়া যশোরের বাইরে রয়েছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌরমেয়র মারুফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুসহ জেলার শীর্ষ নেতারা। দেশের বাইরে আছেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের অন্যতম দাবিদার তিনি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চৌগাছা থেকে জোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলীয় এই সংকটকালীন সময়ে তিনি এলাকাতেই নেই। গত ১১ ফেব্রুয়ারি জহুরুল ইসলাম ফেসবুকে নিজের একটি ছবি আপলোড করে ক্যাপশন লিখেছেন, ‘মেরিনা সিঙ্গাপুর’। আর যশোর-২ আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান এখন অবস্থান করছেন ভারতে।
দলীয় সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে আন্দোলন জোরালো করতে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ঢাকায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর সারা দেশে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা উপজেলার শীর্ষ নেতাদের নিজ এলাকায় ভূমিকা রাখার কঠোর নির্দেশ আছে। সেই হিসেবে যশোর জেলার মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কেশবপুরের বাসিন্দা অমলেন্দু দাস অপুর ঢাকায় থাকার কথা। কিন্তু জেলা-উপজেলার অধিকাংশ শীর্ষ নেতা বর্তমানে যশোরে না থাকায় খালেদার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি ‘চোখে পড়ার মতো’ হচ্ছে না। প্রথম দফার পর গতকাল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার কর্মসূচিও নামমাত্র পালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের একাধিক কর্মী।
সূত্র বলছে, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম গত কয়েক দিন যশোরে ‘ঝটিকা মিছিল’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের সাথে জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদ, জেলা যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান বিপুল, যুবদল নেতা ওয়াছি আহমেদ উজ্জ্বল, মিজানুর রহমান, রবিউল গাজী, আব্দুর রাজ্জাক, মাছুদুর রহমান মাসুদ, বুলবুল আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহুরুল হক শিমুল, আরিফ হোসেন, সহ-সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সোহানূর রহমান শামীম, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর রায়হান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ, ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দিন, জাহিদ হাসান টগর, সাউদ আল রশিদ ড্যানি, রবিউল ইসলাম টিপু, রুবেলসহ কিছু নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তবে জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল ও জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আন্দোলনে রাজপথে না থাকায় দলীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।

SHARE