বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শরণখোলায় রহস্যজনক কারেণ ক্ষতিপুরণ বঞ্চিত অর্ধশত পরিবার

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ রাহিমা বেগম (৩৫), স্বামী পরিত্যাক্তা হয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে গত এক যুগ ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের উপর জরাজীর্ন একটি ঘরে বসবাস করার পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে ঝিয়েঁর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। গত ১২ বছর পূর্বে স্বামী মোফাজ্জেল হোসেন ৩ বছরের শিশু পুত্র রাজিবকে সহ তাকে ফেলে চলে যায়। ঐ বেদনা ভুলতে না ভুলতেই বলেশ্বর নদীর তীর জুড়ে সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে শুরু হওয়া টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজের কারণে রাহিমা ও তার পুত্রের মাথাগোঁজার একমাত্র ঠাই টুকু স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদারের মধ্যস্থতায় ক্ষতিপুরণের আশ্বাসে ভেঙ্গে দেয় চায়নার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ক্ষতিপুরণের তালিকায় স্বামী পরিত্যাক্ত অসহায় ওই নারী রাহিমার নাম অন্তর্ভূক্ত হয়নি আজও। অপরদিকে, স্থানীয় দালালের কথা না শোনায় ৩৫/১ পোল্ডারে বেড়িবাঁধ নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্থ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত. ফারুক হাওলাদারের ছেলে হতদরিদ্র অসহায় জেলে মোঃ জাহিদ হাওলাদার (৩৭)’র বসত ঘরটির জরিপকালীন এ্যাওয়ার্ড ক্রমিক নং ১৮৬০ হলেও বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের এল.এ শাখার ৭ ধারার চুড়ান্ত নোটিসে অজ্ঞাত কারণে বসত ঘরটি না থাকায় তার ভাগ্যে জোটেনি ক্ষতিপূরণের কোন টাকা। ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আজাহার মোল্লার ছেলে আঃ হালিম মোল্লা (৩২), এ্যাওয়ার্ড নং- ১৯৬৭, মৃত: মোতাহার আলী খানের ছেলে হেমায়েত খান (৫২), এ্যাওয়ার্ড নং ১৯৬৮, তোতাম্বর হাওলাদারের ছেলে সরোয়ার হাওলাদার (৪৮), এ্যাওয়ার্ড নং ১৬৯৫, মকবুল সরদারের ছেলে হামেদ সরদার (৫২), এ্যাওয়ার্ড নং ১৮৯৪, আলী খানের ছেলে আসাদুল খান (৪২), এ্যাওয়ার্ড নং ১২০৮, বাদশা হাওলাদারের পুত্র রিপন হাওলাদার (২৬), এ্যাওয়ার্ড নং ১২১২, চাঁন মিয়া খানের স্ত্রী বেহুলা বেগম (৪৬), এ্যাওয়ার্ড নং ১৯৬৯, উত্তর কদমতলা গ্রামের জেলে আলগীর হোসেন (৩৮), এ্যাওয়ার্ড নং ১৩৯৮, থাকলেও প্রত্যেকে ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া মৃত: ফারুক হাওলাদার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৬০), মৃত: আয়নোদ্দিনের ছেলে আনসার উদ্দিন (৬৬), সত্তার হাওলাদারের ছেলে আঃ মন্নান হাওলাদার (২৭), দলিল উদ্দিন মীরের ছেলে বাদশা মীর (৪৮), খলিল জোমাদ্দারের ছেলে মাহবুব জোমাদ্দার (২৩), মৃত: মকবুল হাওলাদারের পুত্র খালেক হাওলাদার (৫১), মৃত ইয়াছিন খানের ছেলে ইউসুফ সারেং (৫৫), মৃত: মোসলেম হাওলাদারের ছেলে মোস্তফা হাওলাদার (৪৮) ও উত্তর কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. রহমি উদ্দিন সরদারের ছেলে আঃ করিম সরদার (৯০) সহ নদী সিকিস্তি এলাকার অর্ধশত পরিবারের বসতঘর বেড়িবাঁধের আওতার মধ্যে থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাদেরকে ক্ষতিপূরণের তালিকাভূক্ত করা হয়নি। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের নিয়োগকৃত কলসান্টেন্ট ফার্ম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের (সিইআইপি-১) শরণখোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার মোঃ শফিকুল ইসলাম শামীম ও বাগেরহাট এলএ শাখার কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজসে উপকূলীয় এলাকায় এধরণের অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অনিয়মের সৃষ্টি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, তার এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষতিপুরণের টাকা পরিশোধ সহ বঞ্চিতদের এ্যাওয়ার্ড ভূক্ত করা না হলে এলাকাবাসিকে সাথে নিয়ে যে কোন মূল্যে বাঁধ নির্মাণ প্রতিহত করা হবে। এদিকে বিশ্বব্যাংকের নিয়োগকৃত কলসান্টেন্ট ফার্ম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের (সিইআইপি-১) শরণখোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার মোঃ শফিকুল ইসলাম শামীম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উভয় পার্শ্বের ৭০ফুটের আওতাধীন ব্যক্তিদের ক্ষতিপুরণের টাকা দেয়ার দায়িত্ব বিশ্ব ব্যাংকের, তবে বাঁধে নতুন করে অধিগ্রহণকৃত জমি ও গাছপালার টাকা দেয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। এ ব্যাপারে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, বেড়িবাঁধে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরীতে কোন ধরণের অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।