টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নেই সাকিব

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আগের দিনই নির্বাচকদের ঘোষিত দলে রাখা হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। কিন্তু রোববার বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজেই জানালেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আঙুলের চোটে আপাতত মাঠে নেই সাকিব। রোববার তাকে দেখা গেল মাঠের বাইরের এক আয়োজনে। দুর্নীতি দমন কমিশনের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ছিলেন একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে তার সামাজিক এই দায়িত্ব নিয়ে কথা হলো সামান্যই, বেশিরভাগটা জুড়ে থাকল ক্রিকেটই।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির জন্য শনিবার ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছিল তাকেই। কিন্তু সাকিব জানালেন, এখনই ফেরা হচ্ছে না মাঠে।
“আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কিনা জানি না। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার সম্ভাবনা বোধহয় আমরা নেই। ডাক্তার বলেছেন যে কমপক্ষে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তার মানে এই সিরিজ খেলা হচ্ছে না। দুই সপ্তাহের ভেতরে সুস্থ হয়ে, আবার রিহ্যাব করে পুরো অনুশীলন করে শ্রীলঙ্কাতে আমাদের যে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে হবে, সেটাতে খেলতে পারব।” প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন, পরের ম্যাচটায় সাকিবকে পাওয়ার আশা ছাড়েননি তারা।

“আমরা জানতামই যে প্রথম ম্যাচে ওকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে ডাক্তারের আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তো অফিসিয়ালি তাকে বাইরে রাখতে পারি না! রিপোর্ট এখনও পাইনি। প্রথমটায় খেলা না হলেও আমরা আশাবাদী যে পরেরটায় পাব ওকে। তবে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না। পুরো ফিট হলেই কেবল ফেরানো হবে।”
গত মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে চোট নিয়ে ছিটকে যান সাকিব। খেলতে পারেননি টেস্ট সিরিজে। গোটা সিরিজেই তার অভাব প্রচণ্ডভাবে অনুভব করেছে দল। মাঠের বাইরে থাকার সময়টা ভীষণ পোড়াচ্ছে সাকিবকেও।
“পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে থাকতে না পারলে তো খারাপ লাগেই। এটার ওপর আমার হাতও নেই যে কিছু করতে পারব। চিন্তা করেছি যে, এটাই হয়ত নিয়তিতে ছিল। কিছু কিছু ব্যাপারে আসলে কি হলে কী হতো, এটা চিন্তা করা যাবে না। ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে হয়। তবে একজন খেলোয়াড় যদি খেলতে না পারে, সেই অনুভূতি বলে বোঝানোর নয়।”
এই টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবার টেস্টের নেতৃত্বে ফেরার কথা ছিল তার। আততায়ী চোট সেটা হতে দেয়নি। মিরপুর টেস্টে হেরে বাংলাদেশ হেরেছে সিরিজ। সেই হতাশা লুকালেন না সাকিব।
“টেস্টে আমাদের সবারই লক্ষ্য ছিল জয়। অবশ্যই একটু হতাশ। আমার মনে হয় ক্রিকেটাররা সবাই হতাশ। কিন্তু ক্রিকেটে সবসময় চাওয়ামত ফল আসে না।”
সাকিবের বিশ্বাস, টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে দল। নিজের বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তিও দেখালেন এই অলরাউন্ডার।
“আমি খুবই আশাবাদী যে টি-টোয়েন্টি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াব। এখানে একটা ওভারই খেলা বদলে দিতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে কেউ ফেভারিট হয়ে নামে না। আয়ারল্যান্ডের সাথে অস্ট্রেলিয়া বা ভারত যদি খেলে, তাও ফেভারিট না। টি-টোয়েন্টির মজাটাই এখানে। আমি বলব এখানে কেউ ফেভারিট না, যারা ভাল খেলবে তারাই জিতবে।”
“আমি আমার দল নিয়ে আশাবাদী, কারণ এই দল ভাল করার সামর্থ্য রাখে। এখানে যারা আছেন, সবাই পারফরমার। বিশেষ করে যারা নতুন এসেছে, তারা বিপিএলে খুব ভাল করেছে বলে এসেছে। বিপিএলে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সাথে খেলে অবস্থাটা বুঝে গেছে। তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি চাই সবাই স্বাধীনতা নিয়ে খেলুক, দলের জন্য ভাল কিছু করার চেষ্টা থাকুক।”
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে। পরেরটি রোববার সিলেটে।