‘অলৌকিক’ আগুন আতঙ্কে খোলা আকাশের নীচে মানুষ!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার একটি পাড়ায় গত ৫ দিন ধরে ‘অলৌকিকভাবে’ বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন আগুন আতঙ্কে রয়েছে ওই পাড়ার অর্ধশতাধিক মানুষ। আগুন আতঙ্কে তারা এখন বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নীচে।
খানসামা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বয়জউদ্দীন পাড়ায় গত ৫ দিনে ৮টি বাড়ির ৮টি ঘরে এই অলৌকিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা পাড়া জুড়ে এখন বিরাজ করছে আগুন আতঙ্ক। ৫ দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই ওই পাড়ার কোনো না কোনো বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন আতঙ্কে রয়েছে গোটা পাড়া।
গতকাল রোববার পঞ্চম দিন সকাল ১০টায় ওই পাড়ার গয়েজ উদ্দিনের ছেলে লাবলু রহমানের রান্না ঘরে আগুন লাগে।
এরআগে গত বুধবার প্রথম দিন দুপুর প্রায় দেড়টায় বয়েজ উদ্দিনের ছেলে আতিকুল ইসলামের রান্না ঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আব্দুস সাত্তারের ছেলে গোলাম রব্বানীর রান্না ঘরে আগুন লাগে।
এরপর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে পরদিন বৃস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আবারও বয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু বকর সিদ্দিকের রান্না ঘরে এবং বিকাল ৩টায় তার ভাই আনিসুর রহমানের রান্না ঘরে আগুন লাগে। শুক্রবার বেলা ১১টায় গয়েজ উদ্দিনের ছেলে লাবলু রহমানের রান্না ঘরে এবং বিকাল ৩টায় বছির উদ্দিনের ছেলে আইনুল হকের রান্না ঘরে আগুন লাগে।
পরদিন শনিবার সকাল ১০টায় বয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু বকর সিদ্দিকের রান্না ঘরে আগুন লাগলে অলৌকিক ভাবে লাগা আগুনের খবরটি চারদিক ছড়িয়ে যায়। আর এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শতশত মানুষ আসে ওই পাড়ায়।
এদিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে পাড়ার লোকজন নারী ও শিশুদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী জমিতে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
এলাকাবাসী জানায়, বুধবার প্রথমে আতিকুলের রান্না ঘরে আগুন লাগে। পরে তার ভাই ও তাদের প্রতিবেশীদের পাক ঘরে আগুন ধরে। একবার সকালে লাগছে আর একবার বিকালে না হয় সন্ধ্যায় লাগছে। বুধবার থেকে এই পাড়ায় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ আছে। এরপরও ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, সঙ্গে আলোকঝাড়ির চেয়ারম্যান এবং ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ছিলেন। আমি বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছি।
নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়ন স্টেশন অফিসার এনামুল হক জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি পোড়া স্থান প্রায় এক স্কোয়ার ফিট। আমার মনে হয় এক্স ওয়াই জেট কেউ খেলা করতে পারে। আমি তাদেরকে প্রতিটি বাড়ি থেকে লোক নিয়ে কমিটি করার পরামর্শ দিয়েছি।