অবহেলায় বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহি অযোধ্য মঠ

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট॥ অযত্নে আর অবহেলায় রয়েছে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহি অযোধ্য মঠ। মঠের উপরিভাগে বেড়ে ওটা পরগাছা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ঝুকিতে রয়েছে মূল্যবান প্রাচীন এ স্থাপনাটি। উল্লেখ্য বাগেরহাট সদর উজেলার যাত্রাপুর বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বারুইপাড়া ইউনিয়নের ভৈরব নদীর পূর্ব তীরে কোদলা গ্রামে অবস্থিত ঐত্যিবাহি এ মঠটি। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হলেও প্রাচীন এ মঠটি দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য নেই নূন্যতম সুবিধা। আর এ কারনে স্থাপত্য নান্দনিকতায় এটি দেশের সবচাইতে সুন্দরতম মঠ হলেও এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা পড়ছেন নানা বিড়াম্বনায়। কবে কার দ্বারা এ মঠ নির্মিত হয়েছিল তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও বাগেরহাট প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ঐতিহ্যবাহি এ মঠটি সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নির্মিত। বহুকাল আগে মঠের দক্ষিণ কার্নিসের নিচে প্রায় অদৃশ্যমান দুই লাইনের একটি ইটে খোদাই করা লিপি অনুযায়ী দেবতার অনুগ্রহ লাভের আশায় কোনো এক ব্রাহ্মণ মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে জনশ্রুতি আছে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য তার সভাসদ গৃহের পন্ডিত অবিলযম্বা সরস্বতীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মঠটি নির্মান করেন।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঠটির দেয়ালে লাল রংঙের ইটের উপর খোদাই করা অলংকার গুলোতে অযতœ আর অবেহলোয় সেদলা পড়েছে। মঠে প্রবেশ দরজার উপরের অংশে পোড়া মাটিতে আকর্ষনীয় অলংকার করা বেশ কয়েকটি ইট ও নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে ইটের উপর খোদাই করা কারুকাজ গুলো নষ্ট হয়ে নিচে পড়ছে। মঠের উপরে জন্ম নেয়া পরগাছার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেয়াল।
মঠের দ্বায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার সামছুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মঠের উপরে জন্ম নেয়া পরগাছা গুলো পরিস্কার করার জন্য কোন উদ্দ্যোগ নেয়া হয়নি। যে কারনে পরগাছার শিকড়ে মঠের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যশোর থেকে অযোধ্য মঠ দেখতে আসা খায়রুজ্জামান বলেন, অযোধ্য মঠ সম্পর্কে বইতে অনেক পড়েছি কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়নি। তাই সময় পেয়ে ঐতিহ্যবাহি এ মঠটিকে দেখতে আসা। কিন্তু এখানে আসার পর সদস্যায় পড়েগেছি। মঠের আশপাশে কোন খাবার হোটেল বা দোকান না থাকায় মঠটি ভালোভালে ঘুরে না দেখেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
অযোধ্য মঠ দেখতে আসা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বাসিন্দা মিলি আক্তার বলেন, নিজ জেলাতে ঐতিহ্যবাহি এ মঠটি থাকলে ও সময় স্বল্পতার কারনে দেখতে আসা হয়নি। তাই সময় বের করে মঠটি দেখতে আসা। তবে এখানে আসার পর কোন বাথরুম না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছি। এ কারনে অল্প সময় থেকে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, খুলনা প্রততœত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন উপ-প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরির্দশ করেছেন। তিনি অযোধ্য মঠটি ব্যাপক সংস্কার করার জন্য একটি প্রাককলন তৈরী করেছেন। আশা করি চলতি বছরের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে।