সাতক্ষীরার কুশখালীর গরুর খাটাল বন্ধে আদালতের নিদের্শ কার্যকর হচ্ছে না

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরায় কুশখালী সীমান্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না। অবৈধ ভাবে আসছে ভারতীয় গরু। স্থ্ানীয় চেয়ারম্যান বলছেন যেকোন সময় হতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ভারতীয় গরুর খাটাল বন্ধে তিনি দুই দফায় উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। আদালত খাটাল বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে।
কুশখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল জানান, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর গ্রামের দেবব্রত কুমার রায় ২০১৬ সালে সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট আবেদন করে খাটাল পরিচালনার সরকারি অনুমতি পান। ২০১৭ সালে তার মেয়াদ শেষ হলে স্থানীয় বিজিবি তার খাটাল বন্ধ করে দেয়। এসময় দেবব্রত কুমার রায় পুনরায় অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট করেন।
আদালত সাময়িক ভাবে খাটাল পরিচালনার জন্য আবারও দায়িত্ব দেন দেবব্রত কুমার রায়কে। এরপর দেবব্রত কুমার রায় পৃথকভাবে দুই/তিন ব্যক্তির কাছে এফিডেফিটের মাধ্যমে খাটাল হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে এফিডেফিটের মাধ্যমে খাটাল হস্তান্তর নেয়া লোকজনদের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষমতার লড়াই। শুরু হয় গরু নিয়ে চাঁদাবাজি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫৩০ টাকা নেয়ার কথা থাকলে আদায় করা হয় ২৭’শ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এই টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ও ভাগাভাগি নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁচেছে যে কোন সময় হতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
গরুর ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়ম আনুযায়ী খাটাল মালিককে দেবব্রত কুমার রায়কে প্রতিদিন খাটালে থাকতে হবে। প্রতিদিন স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে চিরকুট দিয়ে গরু আনার অনুমতি নিতে হবে। এসব তিনি মানেন না। তিনি কখনও খাটালে আসেন না। যারা থাকেন তারা ইচ্ছামত চাঁদা আদায় করেন। এনিয়ে খাটালে দেখা দিয়েছে দখল দারিত্ব। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের পর্যায়ের স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি।
এদিকে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ভারতীয় গরুর খাটাল বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন স্থানীয় কুশখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল। আদালত খাটাল বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা আজ ও কার্যকর হয়নি। চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল আরও বলেন, খাটাল হস্তান্তর বা বিক্রয়যোগ্য না। কিন্তু দেবব্রত কুমার রায় টাকার বিনিময়ে পৃথকভাবে দুই/তিন ব্যক্তির কাছে এফিডেফিটের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছেন। এফিডেফিটের মাধ্যমে বিট/খাটাল গ্রহীতারা গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন সময়ে খাটাল দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে যেকোন সময় আইন-শৃঙ্খলার অবনতিসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নের অভ্যন্তরে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে কুশখালী বিট/খাটাল বন্ধের জন্য মামলা করেছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে দেবব্রত কুমার রায়ের নিকট একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা ৩৮বিজিবি’র অধিনায়ক লে: কর্ণেল সরকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের কোন নির্দেশ তিনি পাননি। আদালতের যেকোন নির্দেশ পাওয়া গেলে সেটি যাবে মিনিস্ট্রিতে। মিনিস্ট্রি পাঠাবে ডিসি আফিসে। এরপর যাবে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট। উপজেলা নির্বাহি অফিসার তাকে জানাবেন। তারপর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট থেকে যে আদেশ আসছিল, তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পৌঁছে দিয়েছেন।

SHARE