‘গুলি কর, জেলে দিও না’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতের্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দোষী হলে জেলে যাওয়ার চেয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়াতেই বেশি পছন্দ করবেন তিনি।

মাদকবিরোধী যুদ্ধে হাজারো নাগরিকের মৃত্যুর জন্য আইসিসি তাকে দায়ী করতে পারে কিনা এ ব্যাপারে প্রশ্নও তুলেছেন আন্তর্জাতিক চাপকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা করে আসা এ আগ্রাসী বক্তা।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দুতের্তে সন্দেহভাজন চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবহারকারীদের গুলি করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও অস্বীকার করেছেন বলে খবর রয়টার্সের।

আগের দিন আইসিসির কৌঁসুলি ফাতৌ বেনসৌদা দুতের্তের অভিযানে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এমনটা জানানোর পর ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টের এ প্রতিক্রিয়া এলো।

“আপনার সঙ্গে কথা বলার বিরল সুযোগ চাইতে পারি, কক্ষে কেবল আমরা দুজন থাকবো। আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি, যদি আমাকে দোষী হিসেবে পেতে চান, এগিয়ে যান। তাই হোক। এমন একটি দেশ খুঁজে বের করুন, যেখানে মানুষকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মারা হয়, আমি প্রস্তুত।

“বিচারের পর বিচারের অনর্থক প্রক্রিয়ায় ফেলার প্রয়োজন নেই আমাকে। যান, তদন্তকে এগিয়ে নিন। আমাকে দোষী প্রমাণ করুন, ” সংবাদ সম্মেলনে বলেন দুতের্তে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ পুলিশের হাতে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়; এদের অধিকাংশই গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও বারবার তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

নিহতের এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা দুতের্তেবিরোধীদের। অভিযানের নামে পুলিশ পরিকল্পিত হত্যায় লিপ্ত বলেও দাবি করছে তারা।

রয়টার্স বলছে, সদস্য রাষ্ট্রের কোনো একটি পরিস্থিতি নিয়ে হেগের আদালতে অভিযোগ দায়েরের আগে তা খতিয়ে দেখা আইসিসির তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছরও লাগতে পারে।

সদস্য রাষ্ট্র কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আইসিসি ওই বিষয়ের বিচারও করতে পারে।

SHARE