মালদ্বীপ সঙ্কট আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা জাতিসংঘের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মালদ্বীপের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট আরও খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মালদ্বীপের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে বলে জানায় এনডিটিভি।
বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, মালদ্বীপে এখনও সংঘাতের খবর পাওয়া না গেলেও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেঙ্কা সেখানকার পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আদালত-সরকার দ্বন্দ্বে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনীতিতে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে সেটা নিয়ে বৃহস্পতিবারই প্রথম নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়।
একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও অনুমতি মেলেনি।
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাদন্ড পাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং তার দল মালদিভিয়ান ডেমক্রেটিক পার্টি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ১২ এমপিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তির নির্দেশ দেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট তাদের বিচারকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন তাদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটিতে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘণীভূত হয়।
ওই রায়ের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন প্রথমে পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন এবং চারদিন পর দেশে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন তিনি।
জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ দুই বিচারক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুই বিচারক গ্রেপ্তারের পর সুপ্রিম কোর্টের বাকি তিন বিচারক বিরোধী এমপিদের মুক্তির রায় প্রত্যাহার করে নেন।
জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারত দুই বিচারক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট গাইয়ুমকে মুক্তি এবং জরুরি অবস্থা তুনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কিন্তু ইয়ামিন তাতে কর্ণপাত করেননি এবং তার সৎভাই গাইয়ুমকে বৃহস্পতিবার রাতে মাফুশি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় সংবাদ সংস্থা মিহারু ডট কম।
জরুরি অবস্থার জারির কারণ ব্যাখ্যায় এবং নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ে মিত্রদেশ চীন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন ইয়ামিন।
তার ওয়েবসাইটে বুধবার এক পোস্টে বলা হয়, ইয়ামিন তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মোহামেদ সাঈদকে চীনে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ আসিমকে পাকিস্তানে এবং কৃষি ও মৎস সম্পদমন্ত্রী মোহামেদ শাইনিকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন।
কিন্তু আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ ভারতকে তিনি এড়িয়ে গেছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।