সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় টার্মিনালে বাস মালিক নেতৃবৃন্দ’র সংবাদ সম্মেলন

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না দিয়ে এবং গঠনতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে অনৈতিকভাবে সময় নিয়ন্ত্রকদের দিয়ে বটতলা নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টাকে যৌথভাবে রুখে দিয়েছে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনালের মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে ৩ ফেব্রুয়ারীর বিশেষ জরুরী সাধারণ সভার মধ্যদিয়ে ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন পূর্বক নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করায় আবারো নতুন করে গঠনতান্ত্রিকভাবে পথ চলা শুরু হল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালের। বুধবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালের নিজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির নবাগত আহবায়ক গোলাম মোরশেদ এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ৬ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কমিটির মেয়াদ থাকে ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত। এরও ৪৫ দিন আগে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নতুন ত্রি-বার্ষিক কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। যেকারণে যুগ্ম শ্রম পরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন খুলনা কর্তৃক ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ স্মারক নং-৪০. ০২. ০০০০. ১০৩.৩৪. ১১.২০১৪- ২১২৫/১(৩) পত্র মারফত সমিতির সভাপতি সম্পাদককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে বলেন, যে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না করলে সমিতির গঠনতন্ত্রের ২০ ধারার বিধান অনুযায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি আপনা আপনিভাবে বিলুপ্ত হবে।
এরপরও নির্বাচন বানচাল করে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় থাকার জন্য তৎকালিন সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ গঠনতন্ত্র সংশোধনের নামে ভূয়া মিটিং এর মাধ্যমে অবৈধ ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির তালিকা শ্রম দপ্তরে দাখিল করেন। এরপর শ্রম পরিচালক ঐ কমিটির বৈধতা না দেয়ায় যুগ্ম শ্রম পরিচালকের দেয়া পত্রকে চ্যালেঞ্জ করে আসাদুলকে দিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে ১৭৭৯৮/১৭ রিট পিটিশন দাখিল করেন এবং মহামান্য হাইকোর্ট ৬মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এরপর আদালতের আদেশ পেয়ে সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
পরবর্তিতে ওই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন মহামান্য হাইকের্টের ঐ আদেশের বিপরিতে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের সরনাপন্ন হন যার রিট নং ২০৭/১৮। রিটের বিপরিতে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে গত ২৫ জানুয়ারী ৬মাসের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন। এরআগে ৫ ডিসেম্বর ১৭ তারিখে ঐ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তৎকালিন সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এর অনুমতি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ২৪ ঘন্টার জরুরী নোটিশে পহেলা ফেব্রুয়ারী ০১(২৮০)১৮ নং পত্রের মাধ্যমে ৩ ফেব্রুয়ারী ১৮ বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করা হয়।
আহবায়ক গোলাম মোরশেদ আরও বলেন, অধ্যক্ষ আবু আহমেদ গঠনতন্ত্রের ২৫(খ) ধারা উল্লেখ করে যা বলতে চেয়েছেন তা এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র বর্হিভূত। কারণ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে বর্ণিত ২০ ধারায় উল্লেখিত ২৪ ঘন্টার নোটিশে সাধারণ সদস্যদের মধ্য হতে যে কোন একজনের আহবানে বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করার বিধান রয়েছে। সে আনুযায়ী গত ৩ ফেব্রুয়ারী বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সাংবাদিকদের রেজুলেশান খাতা খুলে ১৯৩ জনের স্বাক্ষর দেখান তিনি। তিনি বলেন, জাল জালিয়াতি করলে পুরোটাই দেখানো যেত কিন্তু ওইদিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো মিটিং অনুষ্ঠান প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিডিও করা হয়েছে। তা দেখলেই এসব অপপ্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। আমি কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়নি।
গোলাম মোরশেদ আরও জানান, গঠনতন্ত্রের বিধান মোতাবেক বাস মালিক বৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি বর্তমানে আহবায়কের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। একই সাথে অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এর মিথ্যা অসত্য গঠনতন্ত্র বিরোধী প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিক সমাজ ও সাতক্ষীরাবাসীকে বিভ্রান্ত করার অশুভ পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী আগামী ১৭ মার্চ সমিতির সাধারণ নির্বাচন। ইতোমধ্যে এ্যাড. আব্দুল বারীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। যথা সময়ে নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করাই আমার লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুল করিম সাবু, সদস্য সচিব শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হাসান, শাহাজান বারী, একে এম মোতাহারুল হক প্রমুখ।

SHARE