সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির প্যানেল লিডার ডা. লিটু যশোর ইনস্টিটিউটকে ঢেলে সাজাতে চাই

শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি চর্চার শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যশোর ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন চলতি মাসের ২৩ তারিখ। দুইটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ৪০ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। নির্বাচনে তিন বছর মেয়াদের জন্য জয়ী হলে যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা নিয়ে প্যানেল দু’টির লিডারদের ভাবনা জানতে একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন দৈনিক সমাজের কথা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সালমান হাসান। আজ সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির লিডার ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর যশোর ইনস্টিটিউট নিয়ে ভাবনা তুলে ধরা হলো।

সমাজের কথা: শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালিত পাবলিক লাইব্রেরি, নাট্যকলা, শিশু চিত্ত বিনোদন কেন্দ্র ও ক্রীড়া বিভাগ গতিশীল করতে আপনাদের ভাবনা কী?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পুরাতন প্রতিষ্ঠান। শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য আরো নিত্যনতুন বইয়ের সংগ্রহ গড়ে তুলে লাইব্রেরির ব্যাপকতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সর্বোপরি জ্ঞান-বিজ্ঞান, নাটক, খেলাধুলা, শিল্পচর্চার জন্য আধুনিক ইনস্টিটিউট বির্নিমাণে আমাদের অনেক কাজ করার সুযোগ আছে।
সমাজের কথা: যশোর পাবলিক লাইব্রেরিতে এখন আর আগের মত পাঠক আসছে না। এ সমস্যা সমাধানে আপনাদের করণীয় নিয়ে কী ভাবছেন?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: ইন্টারনেটের এই যুগে ঘরে বসে সব ধরণের বই পাঠের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য তরুণ প্রজন্মের মাঝে লাইব্রেরিতে বসে লেখাপড়ার প্রবণতা কমছে। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে পাঠাগার মুখী করার জন্য ই-লাইব্রেরি গড়ে তোলা যায় কিনা সে ব্যাপারেও আমাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এছাড়া আমরা স্কুল কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সৃজনশীল বই পাঠে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেবো।
সমাজের কথা: প্রতিনিয়ত নাট্যচর্চার ভেতর দিয়ে নাট্যকলা বিভাগ থেকে নতুন নতুন শিল্পী সৃষ্টির জন্য কোন উদ্যোগ নিতে চান?
ডা. আবুল কালাম আজাদ: নাট্য শিল্পের উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য প্রতিনিয়ত নাট্য কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। প্রতিনিয়ত নাট্যচর্চা, নাটক মঞ্চায়নের ভেতর দিয়ে আমরা নতুন নাট্যশিল্পী গড়ে তোলায় ভুমিকা রাখতে চাই। এ জন্য বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাট্যচর্চায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
সমাজের কথা: মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানে (টাউন হল মাঠ) সবুজ ঘাস রোপনের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না কেন?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: টাউন হল মাঠ সবুজায়নের দাবি বহুদিনের। তবে এটি বাস্তবায়নে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমরা বহুবার মাঠ সবুজায়নের জন্য ঘাস লাগিয়েছি। কিন্তু মেলাসহ সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে মাঠ সবুজায়নের আগেই তা মরে গেছে। এক্ষেত্রে একটি সমস্যা হচ্ছে মাঠটি বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা দেখছি জেলা প্রশাসক মাঠটি সরাসরি বরাদ্দ দিয়ে দিচ্ছেন। তবে এবার আমরা মেলা অন্য কোথাও আয়োজনের ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করব।
সমাজের কথা: টাউন হল ময়দানে স্বাধীনতার স্মারকবাহী উন্মুক্ত মঞ্চ সংস্কার করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিনেও তা হয়নি। আপনারা নির্বাচিত হলে এব্যাপারে কী পরিকল্পনা নেবেন?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: মঞ্চ সংস্কার করতে একটি বাজেট অনুমোদনের জন্য ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদের সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. হুমায়ুন কবীর সংস্কারের পাশাপাশি মঞ্চ সম্প্রসারণ করে একটি গ্রিন রুম ও ওয়াশরুম নির্মাণ করার প্রস্তাব রাখেন। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংগতির দিক বিবেচনায় মঞ্চ সংস্কার ও সম্প্রসারণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে কোন সাড়া মেলেনি। তবে গত বছর স্বাধীনতা দিবসের আগে ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে মঞ্চের চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে নতুন করে রঙ করা হয়েছিল। এবার নির্বাচিত হলে ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে মঞ্চ সংস্কার করার পরিকল্পনা আছে।
সমাজের কথা: দীর্ঘদিন যশোর ইনস্টিটিউটের সদস্য ফরম ছাড়া হচ্ছে না। নতুন সদস্য গ্রহণের ব্যাপারে আপনারা কি ভাবছেন?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: অতীতে সদস্য পদ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় কোন নিয়মনীতি মানা হয়নি। যশোর ইনস্টিটিউটের সংবিধান অনুযায়ী নিয়মনীতি মেনেই আমরা সদস্য পদ প্রদান করব।
সমাজের কথা: রওশন আলী মঞ্চে চলা অনুষ্ঠানের উচ্চ শব্দে লাইব্রেরিতে পড়ার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ রয়েছে পাঠকদের। লাইব্রেরি চলাকালে এমন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার ব্যাপারে আপনাদের মতামত কী?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: পাঠকদের পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতে লাইব্রেরি চলাকালে অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ বরাদ্দ না দেওয়ার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় অবস্থান নেবো।
সমাজের কথা: ইনস্টিটিউটের একটি ক্রীড়া বিভাগ থাকলেও এটিকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার তেমন কোন চর্চা নেই। নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য কোন পরিকল্পনা নিবেন?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীতে নতুন খেলোয়াড় তৈরি করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করবে যশোর ইনস্টিটিউটের ক্রীড়া বিভাগ।
সমাজের কথা: যশোর ইনস্টিটিউটে কর্মরতরা অনেক অল্প বেতনে কাজ করেন। তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা আছে?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: ইতিমধ্যে আমরা যশোর ইনস্টিটিউটে কর্মরতদের বেতন বাড়িয়েছি। ভবিষ্যতে আমাদের নতুন একটি বেতন স্কেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজের কথা: দীর্ঘদিন বইমেলার আয়োজন করছে না যশোর ইনস্টিটিউট। নিয়মিত বই মেলা করার ব্যাপারে আপনারা কতটা উদ্যোগী হবেন?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: বই মেলা আয়োজনের ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। লাইব্রেরির সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ গত বছর মেলার আয়োজকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। কিন্তু প্রকাশকরা যশোরে মেলার জন্য সময় দিতে না পারায় আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবার নির্বাচিত হলে বই মেলার পাশাপাশি যদুনাথ মেলার আয়োজন করা হবে।
সমাজের কথা: গোপনে সদস্য করার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে অনেককে প্রায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: গোপনে সদস্য করার বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। কারণ পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদনের পর সদস্য পদ দেওয়া হয়। তাই যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়।
সমাজের কথা: জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?
ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু: যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে আমরা প্যানেল গঠন করতে সক্ষম হয়েছি। পূর্ণ প্যানেল জয়ী হয়ে আমরা পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী।

SHARE