যশোর ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার দর্শকদের ভিড়
নতুন উদ্ভাবন না থাকলেও প্রশংসার চোখে দেখছেন তারা

তুষার আহসান
একান্ত নিজের চিন্তায় নতুন উদ্ভাবন না থাকলেও ক্ষুদে উদ্ভাবকদের বিজ্ঞানচিন্তাকে প্রশংসার চোখে দেখছেন যশোর ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার দর্শকরা। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ‘বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তাশীল’দের তৈরি ডিজিটাল হাউজ কন্ট্রেলিং সিস্টেম এন্ড এলার্ম, রিনিউএ্যবল অ্যানার্জি পাওয়ার গ্রিডকে ঘিরে বেশ আগ্রহ দেখা যায়। গত বছরের দেশসেরা উদ্ভাবক যশোরের শার্শার মিজানুর রহমান মিজানের ‘উদ্ভাবন’কে নিয়ে রয়েছে কৌতুহল। বিজ্ঞানপ্রিয় দর্শকরা মনে করছেন, মেলায় ‘ইউনিক উদ্ভাবন’ না থাকলেও এভাবেই ভাবতে ভাবতে এই সব ক্ষুদে-তরুণদের মধ্য থেকে জন্ম নিতে পারে কালজয়ী বিজ্ঞানী।
গতকাল শহরের ঈদগাহে যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় ক্ষুদে বিজ্ঞান চিন্তকদের দেখা মেলে। যশোর পলিটেকনিকে ইলেকট্রিক্যালে ৫ম বর্ষে পড়ালেখা করেন অনন্য, হাদিউজ্জামান ও এস এম সাফাত। তাদের তৈরি ঘরটিতে প্রবেশের সাথে সাথে লাইট জ্বলে উঠবে। বেরিয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যাবে লাইট। এছাড়া বাড়ির ভেতর থেকে অনেক সময় বৃষ্টির আগাম বার্তা পাওয়া যায় না। তাদের ঘরে লাগানো হয়েছে ‘বৃষ্টি সচেতন এলার্ম’। বেজে উঠলেই ঘরের বাইরে থাকা পানিতে ভিজে যেতে পারে এমন দরকারি জিনিসপত্রকে (কাপড়, আচার ইত্যাদি) রক্ষা করা যাবে। এক্ষেত্রে দুই ধরণের সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় একই ধরণের ইনোভেশন নিয়ে এসেছে শার্শা উপজেলার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাবের এরফান। সাথে এসেছে পুনরায় সংরক্ষণ করা যায় এমন একটি বৈদ্যুতিক গ্রিডের পরিকল্পনা। যার নাম ‘রনিউএ্যবল অ্যানার্জি পাওয়ার গ্রিড’। বোর্ড মডেল স্কুলে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনের মধ্যে দর্শকদের নজর ছিলো লেজার লাইটের মাধ্যমে অটো অ্যালার্ম সিকিউরিটির দিকে। লেজার লাইট ভেদ করে কেউ ঢুকতে চেষ্টা করলেই বেজে উঠবে অ্যালার্ম। ধরা পড়বে চোর। এখানেও ব্যবহৃত হয়েছে লাইট এলার্ম। এছাড়া আগুন ধরলে অটো সেন্সরের মাধ্যমে চালু হয়ে যাবে পানির পাম্প। আগুন সংলগ্ন স্থানে চালু হয়ে যাবে পানির ফোয়ারা। বন্ধ হয়ে যাবে আগুন।
প্রতিবারের মতো এবারও দেশসেরা উদ্ভাবক শার্শার মিজানুর রহমান এনেছেন চমৎকার কিছু উদ্ভাবন এনেছেন। ‘ব্যায়ামের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র’ উৎসাহ নিয়ে দেখছেন সবাই। সাথে এনেছেন বায়োগ্যাস চালিত দেশিয় পদ্ধতিতে তৈরি ১০০ সিসি’র মোটরসাইকেল। এই মোটর সাইকেল পথচলার সাথে সাথে বিদ্যুৎও উৎপাদন করবে। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে চলবে নিজের উৎপাদিত বিদ্যুতেই। এছাড়া তার তৈরি ‘অ্যাম্বুলেসন্স’, ‘ধুমপান সতর্ককারী যন্ত্র’ ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন দর্শকরা।
যশোরের ঝিকরগাছার গঙ্গানান্দপুর থেকে আনা হয়েছে ‘কচুরিপানা দিয়ে তৈরি কুটিরশিল্প’। সাইদ হাফিজের উদ্ভাবনে চলছে এই কুটিরশিল্পের কাজ। বাংলাদেশে এই প্রথম কচুরিপানা দিয়ে ফাইবার তৈরি করে সম্পূর্ণ হাতে তৈরি কুটিরশিল্প দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন দর্শকরা।
রুনা, তাহমিদ, ফারজানাসহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘গতবারের তুলনায় এবারের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় এসে ভালো লাগছে। অনেক যন্ত্রপাতি দেখে ভালো লাগছে।’ তবে ‘ইউনিক ইনোভেশন’ পাচ্ছেন না বলে জানালেন অনেকে। মেলায় ঘুরতে আসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী (এমএম কলেজ থেকে গণিতে অনার্স, মাস্টার্স) আমিরুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘মেলায় ইউনিক ইনোভেশন পেলাম না। তবে যশোরের ক্ষুদে বিজ্ঞানচিন্তকরা আবিস্কার নিয়ে ভাবছেন- এটাই আমার কাছে ভালো লেগেছে।’
আরেক দর্শক রাজু আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করে চোর ধরার যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। মোবাইল কলের মাধ্যমে ‘অটোলক’, পাম্প স্টার্ট, লাইট অন-অফ ইত্যাদিও দেখেছি। ডায়নামোর ব্যবহারে তৈরি ব্যয়াম দ্বারা বিদ্যুত, অ্যাম্বুলেন্সও দেখলাম। ভালো লেগেছে। কিন্তু এগুলো আবিস্কৃত বিষয়ের নানাবিধ ব্যবহার; উদ্ভাবন বলতে পারছি না। তবে এমন সব চিন্তাই একদিন হয়তো উদ্ভাবকের জন্ম দেবে।’

SHARE