খুলনায় মেধাবী স্কুল ছাত্র রাজিন হত্যা মামলার সব আসামি জামিনে মুক্ত

খুলনাখুলনা ব্যুরো ॥ খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র শেখ ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৩) হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতারের চারদিনের মাথায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্বাক্ষীরাও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তারা আতঙ্কে আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে চাচ্ছে না। রোববার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রাজিনের মা খুলনা মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের শিক্ষিকা রেহানা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি রাত ৯টায় পাবলিক কলেজের অভ্যন্তরে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কনসার্ট চলাকালীন রাজিন কতিপয় সন্ত্রাসী, উচ্ছৃঙ্খল ও ছাত্রী উত্ত্যক্তকারীদের দ্বারা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। নির্মম এ হত্যাকা-ের পরদিন রাজিনের পিতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮-১০জনকে আসামি করে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, খুব দ্রুততার সঙ্গে রাজিন হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতার হয়। আসামিদের মধ্যে মিতুল, রয়েল, আপন ও অন্যরা র‌্যাব ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। কিন্তু দু:খজনক ঘটনা হচ্ছে, রাজিন হত্যাকা-ের মাত্র চারদিনের মাথায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আসামি সানি ইসলাম আপন ও সাক্রান সাহেল মিতুলকে খুলনার শিশু আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাম্মৎ দিলরুবা সুলতানা ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিরা গ্রেফতারের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে জামিন পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকা-ের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে আসামিরা জামিন পাওয়ায় স্বাক্ষীরাও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তারা এখন আর আদালতে সাক্ষ্য দিতে চাচ্ছে না। অবস্থায় মামলাটির সঠিক বিচার হবে কী-না তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রাজিনের মা রেহানা খাতুন রাজিন হত্যা মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসাবে গ্রহণ করে তিন মাসের মধ্যে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচরের দাবি করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় নিহত স্কুল ছাত্র রাজিনের পিতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওলিউর রহমানসহ নিকট আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

SHARE