খুলনার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হত্যা মামলায় কারাগারে

খুলনাখুলনা ব্যুরো ॥ একটি হত্যা মামলায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মাওলা শানু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের বিচারক মোসাম্মাৎ দিলরুবা সুলতানা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কাউন্সিলর শানু নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর বসুপাড়া-বাঁশতলা মোড় এলাকার রেজওয়ান হোসেন সুমন তার দু’বন্ধু ইমদাদুল হক মিলন ও সোহাগ সরদারকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। বসুপাড়া-বাঁশতলা মোড়ে গেলে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত অবস্থায় তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুমন মারা যান। এ ঘটনায় নিহত সুমনের মা রাজিয়া আক্তার ডলি বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ ও আরো ৮/৯জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মাওলা শানু, তার ভাই ছোটন, বসুপাড়া-বাঁশতলা এলাকার শহীদ মীরের দু’ ছেলে টুলু ও জুলু, বসুপাড়া আন্দির পুকুর এলাকার আলতাফ সরদারের ছেলে ইমরান, ডিস মোহাম্মাদের ছেলে জাকারিয়া, আব্দুর রশিদের ছেলে জাহিদ, বসুপাড়া এতিমখানা রোড বাইলেনের কাজী সেলিমের ছেলে জসিম, বিহারী কলোনী মোড়ের আকবর বিহারীর ছেলে নূর আলম, নাজিরঘাট এলাকার সোবহান শিকদারের ছেলে ফোরকান, বসুপাড়া মাইছো গলির বারেক গাজীর ছেলে হালিম গাজী ও পশ্চিম বানিয়াখামার ক্রস রোডের বাচ্চু মীরের ছেলে সৈকতকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মাওলা শানু ছাড়া সকল আসামি জামিনে রয়েছেন।
কাউন্সিলর শানুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রজব আলী জানান, গোলাম মাওলা শানু খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরপর তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয়। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাম্বিত হয়ে একটি হত্যার ঘটনায় তাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। যেহেতু তিনি কাউন্সিলর হওয়া স্বত্ত্বেও এলাকার উন্নয়নে অংশ নিতে পারছেন না। সেহেতু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) একটি সূত্র জানায়, কাউন্সিলর শানু নগরীর তালিকাভুক্ত চিহ্ণিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে খুলনা ও সোনাডাঙ্গা থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি এতদিন গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে ছিলেন।

SHARE