যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ছিল অবৈধ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শতবর্ষী গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত অবৈধ ছিলো বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়াই সড়ক বিভাগ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে শতবর্ষী গাছগুলো রেখেই সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি আগামীতে গাছ বাঁচিয়ে সকল উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ ও মো. ইয়াসিন আলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিং-এ ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ বলেন, শতবর্ষী গাছগুলো কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিয়মানুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়নি। এমনকি বনবিভাগের মতামতও নেয়নি। ফলে ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না। আদালতের আদেশে ওই গাছ কাটা স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গাছগুলো কাটা যাবে না। গাছ রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সভাপতি বলেন, একটি গাছের বয়স শত বছর হয়ে গেলে সেখানে একটি ইকো সিস্টেম দাড়িয়ে যায়। গাছটি কাটা হলে পুরো সিস্টেমের উপর আঘাত পড়ে। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই যে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিতে হবে। গাছ রেখেই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।
এবিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জ¦ালানীর কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাকৃতিক বন থেকে তারা জ¦ালানী সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। টেকনাফ রুটের গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এপর্যন্ত শুধুমাত্র বনের ক্ষতি চারশো কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বনের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য খাতেও ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতির হিসাব কয়েক হাজার কোটি টাকা হবে বলে তিনি জানান।

SHARE