টরোন্টো’র সিরিয়াল কিলার!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ কয়েক সপ্তাহ আগে কানাডার টরোন্টো থেকে খুনের দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্রুস ম্যাকার্থার নামের ৬৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩টি হত্যার অভিযোগ আনা হয়। খুনগুলো ওই ব্যক্তি টরোন্টোর কাছে অবস্থিত গে ভিলেজ’এ করেন বলে জানায় পুলিশ। জানা যায়, মানসিক অবসাদ থেকে ব্রুস মেতে ওঠে এক ভয়ঙ্কর খেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টোপ ফেলে সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হতো এবং এক পর্যায়ে তাদের ডেকে এনে কৌশলে হত্যা করতো। তালিকায় নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছে।
পুলিশ জানায়, খুনের শিকার হওয়া সবাই একইভাবে ব্রুসের ফাঁদে পা দেয়। পরবর্তিতে অবশ্য পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে আরও ভয়ানক তথ্য। ব্রুস শুধু ওই তিনটি খুনই করেনি। এর আগেও ঠাণ্ডা মাথায় মানুষের প্রাণ সংহার করেছে সে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আরও দুটি খুনের সঙ্গে ব্রুস ম্যাকার্থারের যোগ রয়েছে। এমনকি বেশ কিছু ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার পেছনেও জড়িত থাকার সম্ভাবনা দেখছে পুলিশ।
জানা যায়, ম্যাকার্থার খুন করে হতভাগ্যদের দেহ টুকরো টুকরো করে বাগানে পুঁতে রাখতো। যাদের সে খুন করতো তাদের বাগানেই গাছের নিচে পুঁতে রাখতো সে। ফলে কারও জানারও উপায় ছিল না, নিখোঁজদের পরিণতি কি হয়েছে।
বেশ ক’বছর ধরেই টরোন্টোর ডাউন টাউনে নারী নিখোঁজের একাধিক অভিযোগ আসলেও তদন্তে কিছুই বের করতে পারছিল না পুলিশ। অঞ্চলটিতে অনেকদিন ধরেই অপরাধের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। ফলে নিখোঁজ নারীরা যে খুনের শিকার হয়েছেন তা পুলিশের কল্পনাতেও আসেনি। পুলিশের ধারণা ছিল, সম্ভবত ওই নারীরা ভাগ্যান্বেষণের কারণে শহর ত্যাগ করেছে।
কানাডা পুলিশের অবশ্য সিরিয়াল খুনি গ্রেফতারের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। কেননা ২০০২ সালে রবার্ট ইউলি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায় ভয়ঙ্কর সব ঘটনা। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ওই ব্যক্তি নারীসহ অন্তত ২০ জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।
খুনের পর রবার্ট তাদের শরীর টুকরো টুকরো করে হয় বিভিন্ন গাছের নিচে পুঁতে রাখতো, নয়তো সেগুলোর মাংস রান্না করে হট ডগ’র মতো খাবার বানিয়ে তা স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতো।
ফলে বরার্টের খুনের মোটিভের সঙ্গে ম্যাকার্থারের অপকর্মের অনেকটাই মিল থাকায় কোমড় বেঁধেই মাঠে নেমেছে পুলিশ। তাদের বিশ্বাস তদন্তে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসবে। তবে একটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে পুলিশকে। তা হচ্ছে দু’জনের অপকর্মে যে মিল দেখা যাচ্ছে তার পেছনে কোনো রহস্য রয়েছে কিনা।
কেউ কেউ বলছেন, এটা কোনো ভয়ঙ্কর মানসিক রোগের লক্ষণ হতে পারে। আবার কারও মতে, এই ধরনের খুনের মাধ্যমে সম্ভবত কোনো গুপ্ত ক্ষমতা পেতে চাইছে খুনিরা!

SHARE