সাতক্ষীরায় এক বাড়ি নিয়ে দুই চোরাকারবারীর লড়াই!

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরা শহরের অতি পরিচিতি নাম মনি, মিলন ও জাহাঙ্গীর। তবে গোযেন্দা সংস্থার কাছে জেলার শীর্ষ চোরাকারবারির তালিকায় আছে এদের নাম। সুধী মহলও তাদের চোরাকারবারি হিসেবে চিনেন। এরা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে অবৈধ কারবারী করে। তবে চোরাই পণ্যে মার চোট খেয়ে জাহাঙ্গীর প্রায় আগের অবস্থানে ফিরে গেলেও মনি ও মিলন রয়েছে বহালতবিয়তে। চোরাকারবারি জাহাঙ্গীরের বাড়ি নিয়ে মিলন আর মনির মধ্যে চলছে শক্তি প্রদর্শন আর আইনি লড়াই। বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় মিলনের পক্ষে থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মনি। আর দুই পক্ষ মুখোমুখি হওয়ায় জেলার শীর্ষ চোরাকারবারি আলফা এখন মনির পক্ষে আর ক্যাডার মান্নান, মিলনের পক্ষে পরোক্ষভাবে মহড়া দিচ্ছে। তবে এতকিছুর পরও পুলিশ শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না কেন তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন মহলের।
খোজখবর নিয়ে জানাযায়, সাতক্ষীরার শহরের জাহাঙ্গীর চোরাকারবারি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়। সেই সময় আবার চোরাইপণ্য মার চোট খেয়ে ফিরে যায় আগের অবস্থানে। আর তার বাড়িটি কিনে নেয় সোনার দোকানের কর্মচারি থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া মিলন পাল। স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিলন পাল ছিল সোনার দোকানের কর্মচারি। এরপর জড়িয়ে পড়ে চোরাকারবারি ব্যবসায়। রাতারাতি হয়ে যায় গাড়ী, বাড়ি, নারীসহ কোটি টাকার মালিক। সেই সময়কার ফাটা কেস্ট পরোক্ষভাবে মিলনের দিকে সুনজর দেয়ায় মিলন থেকে যায় ধরা-ছোয়ার বাইরে। কিন্তু ফাটা কেষ্ট যেতে না যেতেই মিলন হয়ে যায় ধরাসয়ী। সোনার চালান আটক হয় আর এসব মামলায় আসামি হয় মিলন পাল। পুলিশের হাতে আটক হয়ে হাজত বাস করেছে সে। এদিকে সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত চোরাকারবারি মনি জানান, তিনি মিলন পালের নিকট থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে শহরের কাটিয়ায় এলাকায় তিনতলা বিশিষ্ট বাড়িটি কিনেছেন। তবে তিনি বাড়িটি রেজিষ্ট্রি করে নেননি। এরপর থেকে মনি এই বাড়িতে বসবাস শুরু করে। জমি রেজিস্ট্রির কথা বললে মিলন পাল আরো ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। অপরদিকে মিলন পালের স্ত্রী সম্পা রানী জানান, সম্প্রতি মনি তার বাহিনী নিয়ে শহরের কাটিয়া এলাকায় তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বাড়ি থেকে কাগজপত্র মালামাল লুট পাট করে। এলাকার লোকজন বাধা দিতে আসলে মনির লোকজন তাদের মারপিট করে। আহতদের সাতক্ষীরা ও খুলনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় মনি তার লোকজন নিয়ে বাড়িটি দখলে নেয়। জাল জালিয়াতি করে কাগজপত্র তৈরি করে। এখন মনি এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে বাড়ির দখল ছাড়বে না বলে জানিয়েছে। বাড়ি দখল করতে আসলে তাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এসব ঘটনায় মিলন পালের স্ত্রী সম্পারানী বাদি হয়ে সাতক্ষীরা থানায় মামলা দায়ো করেছেন। এসব নিয়ে এই বাড়িতে ও শহরের নারকেল তলায় মনি বাহিনী ও মিলন বাহিনীর মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। মনি সাতক্ষীরার আদালতে একটি মামলা দায়ের করলেও সেটি কোর্ট পুলিশ অফিসে বন্দি হয়ে গেছে। এদিকে মামলা তুলে নিতে বাড়ির দখল পাল্টা দখল নিয়ে উভয়পক্ষ মহড়া দিচ্ছে। আর সেখানে মনির পক্ষে রয়েছে জেলার শীর্ষ চোরাকারবারি আলফা আর মিলনের পক্ষে রয়েছে ্ওই এলাকার ক্যাডার মান্নান ও তার বাহিনী। শক্তি প্রদর্শন ও আইনী সহয়তা পেতে ইতিমধ্যে তিন দফা সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয়পক্ষ। এই সংবাদ সম্মেলনে তারা একে অপরকে জেলার শীর্ষ চোরাকারবারি বলেছেন লিখিতভাবে। তবে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, এই বাড়িটি চোরাকারবারিরা টাকা ভাগাভাগির সময় লেনদেন করতে তারা হাত বদল করে। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ) মেরিনা আক্তার জানান, মিলন পালের স্ত্রী সম্পারানীর মামলাটি রেকর্ড করার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে রেকর্ড হয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি।