জবর দখল করে গোরস্থান নির্মানের হুমকি লোহাগড়ায় দরিদ্র নারীর ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি॥ নড়াইলের লোহাগড়ার পাঁচুড়িয়া গ্রামে সুরতি বেগম (৫৫) নামে এক দরিদ্র নারীর পৈত্রিক জমিতে থাকা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে জমি দখল করে নিয়ে প্রতিপক্ষরা গোরস্থান নির্মাণের হুমকি দিয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, পাঁচুড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ মল্লিকের মেয়ে সুরতি বেগম সহ ৬ বোন ও ভাই টুকু মল্লিক ১২২ নং পাঁচুড়িয়া মৌজার সাবেক খতিয়ান নং-২৬/ ৪৭, এস,এ খতিয়ান নং- ২৬/৫৪/৫২/৫৩ এর ৫৬৮, ৫৫৯, ৫৬০, ৫৬১, ৫৬২, ৫৬৩, ৫৬৪, ৫৬৯, ৫৭৭, ৫৫২, ১০১১, ১০১২, ১০১৩ নং দাগের ৩৩৭ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে মালিক। টুকু মল্লিক তার অংশের কিছু জমি ওই গ্রামের খালেক শরীফের ছেলে ওমর ফারুক শরীফের নিকট বিক্রি করে দেন। কিন্তু ওমর ফারুক শরীফ জোর পূর্বক ৩৩৭ শতক জমির মধ্যে ২৫৩ শতক দীর্ঘদিন ধরে জোর করে ভোগদখলের জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।
গত শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ওই জমিতে থাকা সুরতি বেগমের দুটি টিনের ঘর ভেঙ্গেচুরে মালামাল নিয়ে গেছে ওমর ফারুক শরীফ এর নেতৃত্বে তার ছেলে রনি শরীফ ও সমর্থকরা। ক্ষতিগ্রস্থ সুরতি বেগমের স্বামী সোনাদাহ গ্রামের আকতার ফকির সহ ভাগ্নে সিরাজ শরীফ আরো অভিযোগ করেন, ওমর ফারুক শরীফ এবং তার ছেলে রনি শরীফ সহ ১৫/২০ জন শুক্রবার রাতের বেলায় সুরতি বেগমের দুটি টিনের ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাবার সময় ঘরে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকার আসবাবপত্রও নিয়ে গেছে।
এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওমর ফারুক শরীফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই জমি কিনেছি। জমিতে উঁচু মাটি ছিল তাই শুক্রবার উঁচু জমির মাটি কেটে সমান করতে রাত হয়ে গিয়েছিল। জমির ওই স্থানে গোরস্থান নির্মাণ করবো। অন্যদিকে সুরতি বেগমের স্বামী আকতার ফকির জানান, ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। মামলার রায় সুরতি বেগমের পক্ষে। অথচ ওমর ফারুক শরীফ প্রভাবশালী হওয়ায় সুরতি বেগমকে নানাভাবে হয়রানি করছে। ২০১২ সালে লোহাগড়া থানায় প্রতিপক্ষরা সুরতি বেগমসহ তার আত্মীয়স্বজনের নামে মামলা করেন। মামলা নং-০৬ তাারিখ ৮/০৭/২০১২। ওই মামলার অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন বড়াল ০৭/৫/২০১৭ তারিখে তার আদালতে সকল আসামীদের অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন। ওই জমিতে চার শতাধিক দামি মেহগনি গাছ রয়েছে। ওমর ফারুক শরীফ ও তার লোকজন ওই গাছ যে কোন সময় জোর করে কেটে নিয়ে যেতে পারেন বলেও সুরতি বেগমসহ তার আত্মীয়রা আশংকা করছেন। তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

SHARE