খুলনায় কাস্টমস দিবসে পুরস্কার পাচ্ছেন মংলা বন্দরের পাঁচ সর্বোচ্চ রাজস্বদাতা

খুলনাএস.এম. সাঈদুর রহমান সোহেল, খুলনা ব্যুরো॥ অধিকহারে মংলা বন্দর ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদান করায় পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। শুক্রবার খুলনায় আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে মংলা কাস্টমস হাউজ খুলনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান খুলনা কাস্টমস কমিশনার মারগূব আহমদ।
পুরস্কারের জন্য মনোনিত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কার সিলেকশন, সুনশিং এডিবল ওয়েল লিমিটেড, দি অটোস এবং বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার বিশ্বের ১৮২টি দেশে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালন করা হচ্ছে।
কাস্টমস কমিশনার মারগূব আহমদ জানান, গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে খুলনা কাস্টমস হাউজে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা। অর্জন হয় ৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল ৭ কোটি টাকা। এছাড়া গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় ছিল ১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। তবে, চলতি জানুয়ারিতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। এ অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমান আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার কাস্টমস বলেন, কাস্টমস শুধু রাজস্ব আদায় করে না, দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশও সৃষ্টি করে। দেশকে এগিয়ে নিতে কাস্টমসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করা, সঠিক গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যের খালাস, বাণিজ্য বান্ধব শুল্ক প্রশাসন, আধুনিক শুল্ক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ন্যয়ানুগ বাণিজ্যিক প্রনোদনা প্রদান।
কাস্টমস কমিশনার আরও বলেন, রাজস্ব আহরণ করে এনবিআর সরকারকে সহযোগিতা করছে। ১৯৭২ সালে যেখানে রাজস্ব আদায় হত মাত্র ৫৫ কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে দেশে রাজস্ব আদায় হচ্ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, কাস্টমস-এ কর্মরতরা কাউকে হয়রাণি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, কেউ ট্যাক্স ফাঁকি দিলে সেটিও মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, মংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করতে ড্রেজিংসহ সব ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সবার সহযোগিতায় আগামীতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভীতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট খুলনার কমিশনার কেএম অহিদুল আলম ও অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।