১১৮ দখলদার উচ্ছেদ শুরু করা যায়নি ভৈরবে পানি নিস্কাশন শুরু, নামছে স্কেভেটর

ছবি: এইচ আর পরাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মৃতপ্রায় ভৈরবের বহমানতা ফেরানোর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল নদের কনকপুর থেকে বোলপুর ব্রিজ অংশে বাঁধ দিয়ে পানি নিস্কাশনের কাজ শুরু হয়। আর দুই-একদিনের মধ্যেই নদের মধ্যে নামবে স্কেভেটর। প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার খনন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে আইনি বাধ্যবাধকতায় এখনো বুড়ি ভৈরব দখল করে গড়ে তোল ১১৮ দখলদার উচ্ছেদ শুরু করা যায়নি।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩১ ডিসেম্বর ভৈরব নদ খনন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। এখন নদের মাটি কাটার প্রস্তুতি চলছে। গতকাল থেকে পানি নিস্কাশন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ঠিকাদারকে স্কেভেটার আনতে বলেছি। আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে তা এসে যাবে। তখনই মাটি কাটার কাজ শুরু হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে ভৈরবের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নোটিশ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এজন্য আমাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস উদ্বোধন করতে এসে ভৈরব নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন। পরের বছর ১৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভৈরব নদ খননের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। সেই চিঠির পর ভৈরব নদ খননে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়। পরে ভৈরব নদের রিভার বেসিন এলাকার পানিবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভৈরব নদের এই প্রকল্পটি গ্রহণ করে। এজন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ২৭২ কোটি ৮১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা প্রক্কলন মূল্য ধরে ভৈরবের ১০ কিলোমিটার খনন করতে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনটি দরপত্র আহবান করা হয়। যার মধ্যে নদের উজানে ৫০ কিলোমিটার থেকে ৫৪ কিলোমিটর পর্যন্ত চার কিলোমিটর খননের জন্য প্রক্কলন মূল্য ধরা হয় আট কোটি ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮৫ টাকা ২০ পয়সা, ৫৮ কিলোমিটর হতে ৬১ কিলোমিটার পর্যন্ত তিন কিলোমটির খননের জন্য আট কোটি সাত লাখ ৬৬ হাজার ১৬৭ টাকা এবং ৬১ থেকে ৬৪ কিলোমিটর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খননের জন্য প্রক্কলন মূল্য ধরা হয় সাত কোটি ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫৬ টাকা ত্রিশ পয়সা। ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৮ টাকা মূল্যের তিনটি কাজের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গত ২৭ অক্টোবর। যেখানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তাদের দরপত্র দাখিল করে। যাদের মধ্যে থেকে দোলা কনস্টেকশন লিমিডেটকে খনন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

SHARE