বালু অপসারণে মোংলা বন্দরের দ্বৈত নীতির কারণে হয়রানির ফাঁদে মানুষ

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দ্বৈতনীতির কারনে সরানো যাচ্ছে না স্তুপ করে রাখা কয়েক লাখ ঘনফুট বালু। বন্দর এলাকার কাস্টম অফিস বাউন্ডারির উত্তর পাশে সেনা কল্যান সংস্থার ড্রেজিং করা এই বালু সরাতে নিয়মিত বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বালু সরাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত রাজস্ব ২৫ দিন আগে জমা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বালু সরাতে পারছেন না তারা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি শাখা দুই রকম নীতি অবলম্বন করায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করেন তারা। বালু ড্রেজিংয়ের ব্যবসায়ী অশোক কুমার রায় বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার জন্য সম্পত্তি শাখা এই কৌশল অবলম্বন করছেন। এজন্য তাদের অনেক হয়রানি হতে হয়েছে। বন্দরের সম্পত্তি শাখা ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়, বন্দরের জায়গা থেকে বলু ড্রেজিং করে নিতে বোর্ড সভার (গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সভা) সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই ড্রেজিং করে বালু নিতে অনুমোদন দেয়া যাচ্ছে না।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও গণসংযোগ বিভাগের প্রধান ও সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ড্রেজিং করে বন্দরের স্তুপ করা বালু নিতে পারবে না, এরকম কোন সিন্ধান্ত বোর্ড সভায় হয়নি।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১১ সালের ২০৭তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক টন বালু ১০ হাজার টাকা, পাঁচ টন বালু ৫’শ টাকা, তিন টন বালু ৪’শ টাকা, এক ট্রলি বালু ১’শ টাকা এবং প্রতি ঘনফুট বালু তিন টাকা ৪০ পয়সা করে নির্ধারন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘনফুটের বালু ড্রেজিং করে এবং টনেজ বালু ট্রাকে করে নিতে পারবে।
তিনি আরো জানান, গত ৯ মাস ধরে ঘনফুটের বালু ড্রেজিং করে নেয়া হয়েছে। তবে সম্পত্তি শাখার উর্ধ্বধন ব্যবস্থাপক আবুল কালামের বক্তব্যে বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্টো কেন জানতে চাইলে সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, কালাম সাহেব নতুন মানুষ হয়তো তিনি না জেনে এগুলো করছেন।
এদিকে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও মার্চেন্ট ব্যবসায়ী এইচ এম দুলাল জানান, বন্দরের অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না, বর্তমানে এ বন্দর অনেক অগ্রসর হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অনেক বিদেশিরা এই বন্দর ব্যবহারে ঝুঁকছে, বন্দর লাভজনক হচ্ছে। এ অবস্থায় অসাধু কর্মকর্তার ফাঁদে পড়ে সাধারন মানুষ হয়রানি হলে বন্দরের সুনাম নষ্ট হবে বলেও জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিও) কমান্ডার এফ এম আনোয়ারুল করিম জানান, বোর্ড সভার সিদ্ধান্তকে কেউ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিলে সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হয়। ওই সিদ্ধান্তই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাই জেনে শুনে বন্দরের সকল কর্মকর্তারই কথা বলা উচিত।