কচুয়ায় সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন রেঞ্জ কর্মকর্তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তনে এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি এলাকাবাসি কচুয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধুকে জানালে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে উল্টো কর্তনকারীর পক্ষ নেয়ায় এলাকাবাসি হতাশা হয়ে পড়েছেন।
জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমদিকে কচুয়া উপজেলার সাংদিয়া বাজার থেকে মসনী শীতলা খোলা পর্যন্ত সড়কে সামাজিক বনবিভাগ ২০০০ সালে ৭০ জন উপকারভোগী সদস্য নিয়ে ৬কিঃ মিঃ সবুজ বেষ্টনি প্রকল্পের আওতায় বনায়ন করে। ঐ বনায়নকৃত রাস্তার ডাঃ সোনাতন দাসের মৎস্য ঘের হতে কালাম শেখের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ থেকে লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে বাধাল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেলিম শিকদার। পরে এলাকাবাসির প্রতিবাদের মুখে কর্তনকৃত গাছগুলোর কিছু অংশ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাখেন। এলাকাবাসি জানায়, বনবিভাগের অসাধু রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধুর সাথে যোগসাজসে সরকারী রাস্তার পাশের গাছ বিভিন্ন মহল কেঁটে নিলেও কোন প্রতিকার হয়নি। এদিকে ওই রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধুর বিরুদ্ধে আরো অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সুত্র জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানাগেছে, গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে চিতলমারী উপজেলার ২য় আবর্তের বাগান সৃজনের ২কিঃ মিঃ জায়গায় ৬কিঃ মিঃ এর টাকা উত্তোলন করে আতœসাত করেন। এছাড়া মোরেলগঞ্জÑশরণখোলার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাগান সৃজন ও বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকা তিনি আতœসাত করেন। বন সংরক্ষক সামাজিক বনাঞ্চল যশোর অফিসের আদেশ নং-১৩,তারিখ-১১-০৭-১৭ এর পত্র নং-৯২৫ তারিখ- ১১-০৭-১৭ এর মুলে তার বদলী আদেশ বাতিল করা হলেও তিনি অবৈধভাবে রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব বহাল তবিয়তে পালন করছেন। এলাকাবাসি ওই অসাধু দুর্নীতিবাজ রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধু ও বন উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধু বলেন, সব কাজ হয়েছে। আমাদের গাছ লাগানোর উপরে কিলোমিটার হিসাব করা হয়। ২৫ লক্ষাধিক টাকা আতœসাতের বিষয়ে বলেন, এ টাকা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এবিষয়ে ডিএফও সাইদুর রহমান এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

SHARE