ঝিনাইদহের বিষয়খালী আখ সেন্টার মাঠে কৃষকের বিজয় উৎসব উদযাপন

সাজ্জাদ হোসেন, ঝিনাইদহ ॥ মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের বিষয়খালী আখসেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত হলো কৃষকের বিজয় উৎসব। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিপণ্যের লাভজনক মুল্য পেতে সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তার দাবিতে উন্নয়ন ধারার সহযোগিতায় গড়ে ওঠা স্বাধীন কৃষক সংগঠন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিজয় উৎসবের আলোচনায় বক্তারা বলেন, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনে এদেশের গ্রামীণ কৃষক জনগোষ্ঠীর প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। কিন্তু দঃখজনক হলেও সত্য স্বাধীনতা লাভের পর বিজয় দিবস কেবল শহুরে অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে বিজয় দিবসের মত জাতীয় দিবসগুলো তেমনভাবে উদ্যাপন করা হয় না। এমনি প্রেক্ষাপটে দিবস উদ্যাপনের জন্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন স্বাধীন কৃষক সংগঠন দিনব্যাপী বিস্তর কর্মসূচি গ্রহণ করে। এলাকার সাধারণ কৃষক-কৃষাণী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, চেয়্যারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে বিষয়খালী বাজার হতে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা বিষয়খালী আখসেন্টার গিয়ে শেষ হয় এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া এলাকার সংগঠিত কৃষক পরিবারের নারীদের চেয়ার বদল ও পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা, পিঠা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এসব ইভেন্ট শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম, সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, উন্নয়ন ধারার পিএফএসএসএ প্রকল্পের সমন্বয়কারী হায়দার আলী, সাংবাদিক সাজ্জাদ আহমেদ, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম, উন্নয়ন ধারার সহযোগী সমন্বয়কারী (ডক্যুমেন্টেশন এ- কমিউনিকেশন) কৃষ্ণ দাস সাহা, নুরুল ইসলাম, মোবারেক মৃধা, রবিউল ইসলাম, স¦াধীন কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স¦াধীন কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খুরশীদ আলম রুবায়েত। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় কৃষক পরিবারের জীবনযাত্রার আলেখ্যে রচিত নাটক ‘মেহেরজানের স্বপ্ন’ মঞ্চায়িত করে লোকথিয়েটার বাংলাদেশ, ঝিনাইদহ এবং সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয় উৎসবের সমাপনী হয়।