বাঘারপাড়ার তাহের সিদ্দিকীকে নিয়ে বিএনপিতে নানামুখী নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএনপির রাজনীতিতে যশোরের প্রভাবশালী একটি পরিবারকে পাশে পেয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সিদ্দিকীর। তাদের সমর্থনে দুই বছরের বেশি সময় পর গত ২১ নভেম্বর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাহের সিদ্দিকীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু এর ২৪ ঘন্টা পার না হতেই আরেক চিঠিতে তার বহিস্কারাদেশ বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহসায় আবু তাহের সিদ্দিকী আর দলে ফিরতে পারছেন না।
জানা যায়, ২০১৫ সালে পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তাহের সিদ্দিকী বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হন। এজন্য কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মেনে দলের সব ধরণের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে যশোর জেলা বিএনপি। নির্বাচনের পরে বহিষ্কারাদের প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তিনি আবেদন করেন। দীর্ঘদিন তা ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে থাকলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কল্যাণে গত ২১ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত একটি পত্রে আবু তাহের সিদ্দিকীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এই আদেশের ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। একই ব্যক্তি স্বাক্ষরিত আরেক আদেশে ফের তাকে বহিষ্কারের তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়।
বিএনপির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জোরেসোরেই বাতাস বইতে শুরু করেছে। তারই অংশ হিসেবে বাঘারপাড়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সিদ্দিকীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করাতে ঢাকায় তৎপরতা চালায় অমিতের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক নেতা জানান, অমিত গ্রুপ বর্তমান সরকার রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করতে তাহের সিদ্দিকীর নামে একাধিক মামলা দিয়েছে বলে কেন্দ্রে প্রচারণা চালায়। একই সাথে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে দলীয় হাই কমান্ডকে জানানো হয়। যার প্রভাবে গত ২১ নভেম্বর তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর বাঘাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের নেতৃত্বে বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল হাই মনাসহ কয়েক নেতা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। তারা গত ২৫ আগস্ট তাহের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযানে হামলার বিষয়টি খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন। সেই হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এই বিষয়টিও খালেদা জিয়াকে জানানো হয়। ফলে বদলে যায় আগের সিদ্ধান্ত। এক দিন আগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পাল্টে তাহের সিদ্দিকীকে ফের বহিষ্কারের তালিকায় রেখে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে গতকাল ২২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষর করেন। তাহের সিদ্দিকীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি বেগম খালেদা জিয়া দিয়েছেন বলে সহসায় তিনি আর দলে ফিরতে পারবেন না বলে সূত্রগুলো দাবি করছে।
এব্যাপারে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সিদ্দিকী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার বা প্রত্যাহার আদেশ বহালের কোন চিঠি আমরা এখনো পাইনি। এজন্য এনিয়ে আমার পক্ষে কোন মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না।’

SHARE