চৌগাছায় স্বাস্থ্য সহকারী পলাশের খুনীদের বিচার দাবীতে মানব বন্ধন

ইয়াকুব আলী, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী ইয়াসির আরাফাত পলাশ (৩৫) খুনের বিচারের দাবীতে তার পরিবার মানব বন্ধন করেছে। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার প্রানকেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্যের মোড়ে এ মানববন্ধন করে তার পরিবার। মানববন্ধনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডাক্তার নুর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম,মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্ঝেল, আলীসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এ মানব বন্ধনে অংশ নেন। মানব বন্ধনে নিহত পলাশের পিতা মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে লিখিতভাবে জানান, পলাশের হত্যার ঘটনা নিয়ে একটি বিশেষ মহল নানা ষড়যন্ত্র করছে। ওই মহলটি বলছে বিধান নামে ১৭/১৮ বছরের এক যুবক আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তিনি আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীকে হত্যাকান্ডের সাথে কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করার জোর দাবী করেন।
উল্লেখ্য গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য সহকারী পলাশকে নিজ কর্মস্থলে কর্মরত অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী তাকে হত্যা করে। ঘটনার পর দিন শনিবার সকালে নিহত পলাশের পিতা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫জনকে অভিযুক্ত ও অজ্ঞাত ৫/৭ জনের নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২। এ সময় কোটচাদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের কেনা শেখের ছেলে হাবিব,জিল্লু রহমান খানের ছেলে আব্দুর জব্বার ও হাকিমপুর গ্রামের বলু বিশ্বাসের ছেলে আল-আমিনকে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া এ ঘটনায় মানিক কুমার দাস (২০) ওরফে সন্যাসীকে আটক করা হয়। গত রোববার সে যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে আদালতকে জানায়, ‘পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিধান নামে এক ব্যক্তি তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বিধান পলাশের ডিশ ব্যবসার সাবেক কর্মচারী।
পলাশ নিহত হওয়ার পর বিধানই প্রথম তার চাচাতো ভাই সাকিবুলকে মোবাইল ফোনে জানায় তোমার ভাইকে কেউ হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে।
জবানবন্দিতে মানিক কুমার দাস বলেন, ‘গত ২ নভেম্বর সকালে বিধান তাকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে বিধান বলে, ইয়াসির আরাফাত পলাশের কাছে ডিশ লাইনের কাজের ২ হাজার পাঁচশত টাকা পাবে। এ জন্য তার অফিসে যেতে হবে। এরপর অফিসের কাছাকাছি পৌঁছালে পলাশের সাথে তাদের দেখা হয়। এ সময় পলাশ টাকা নিতে বিধানকে সোমবার আসতে বলে অফিসে চলে যায়। তবুও বিধান তাকে (মানিককে) জোর করে পলাশের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থানের পর বিধান কোমর থেকে একটি হাতুড়ি বের করে পলাশের মাথায় আঘাত করে। এ সময় পলাশ পড়ে গেলে বিধান তাকে টেনে একটি কক্ষের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর বিধান পলাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলে আসে। পরে মানিব্যাগ বিধান তাকে (মানিককে) দেন। আর মোটরসাকেল ও মোবাইল ফোন সেট বিধান নিয়ে যায়।’
এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্ট থানার সেকেন্ড অফিসার আকিক হোসেন। তিনি জানান এ হত্যার মূল রহস্য যে কোন মূল্যে বেরিয়ে আসবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কারও নাম বলা যাচ্ছে না।

SHARE