ভবদহ সমস্যা নিরসনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ভবদহ সমস্যা সমাধানে পাঁচ দফা বাস্তবায়নে চারদিনের পদযাত্রা শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়ন, নদী সংযোগ, আমডাঙ্গা খাল খনন, হরিহর, আপার ভদ্রা ও বুড়িভদ্রায় পুনঃখনন, পানিপ্রবাহে সকল বাঁধা উচ্ছেদসহ পাঁচ দফা দাবিতে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির এ পদযাত্রা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
পদযাত্রা শেষে ঘোষিত নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২২ নভেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকার শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন এবং জাতীয় সংসদে প্রধামন্ত্রী ও স্পিকার এবং ২৩ নভেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাসচিব ও চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি রোববার দুপুরে কালেক্টরেট চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়। কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলনে নেতাকর্মীবৃন্দ।
কর্মসূচির সমাপনী দিনে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে হাজার হাজার জলাবদ্ধ মানুষ পদযাত্রা সহকারে এসে সমবেত হন। এখানে সমাবেশ শেষে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির নেতা ইকবাল কবির জাহিদ, রনজিত বাওয়ালী, গাজী আব্দুল হামিদ, বৈকুণ্ঠ বিহারী রায়, অনিল বিশ্বাস, আবু বক্কার সিদ্দিকী, আতাউর রহমান বাবলু, চৈতন্য পাল, মো. আব্দুল গনি, অশোক রায়, জিল্লুর রহমান ভিটু, জাকির হোসেন হবি, আব্দুল মাজেদ, আহসান উল্লাহ ময়না, সঞ্চয় মল্লিক, চাঁচড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
স্মারকলিপি প্রদানের আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্তি করে টিআএম বাস্তবায়ন না করে লাখ লাখ টাকা অপচয় করে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে নদী খনন করছে। এতে ওই মহলটি যেন-তেন কাজ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভবদহ এলাকার এক শ্রেণির ঘের মালিক, ধনীক শ্রেণি ও স্বার্থান্বেষী জনপ্রতিনিধিদের কারণে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু হচ্ছে না। প্রকৃত জমি মালিকদের সহজ পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা হলে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নে কোন জটিলতা থাকবে না। ৫ দফা দাবি নিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এবছর বিল কপালিয়ায় টিআরএম’র গৃহীত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, ভবদহ স্লুইচগেটের ২১ ও ৯ ভেন্টের মাঝ দিয়ে সরাসরি নদী সংযোগ দিতে হবে। হরিহর, আপারভদ্রা ও বুড়িভদ্রায় জরুরিভিত্তিতে পুনঃখনন করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সংস্কার কাজে দুর্নীতির বিচার করতে হবে। এলাকার সকল নদী খাল পুনরুদ্ধার ও অবমুক্ত করতে হবে। প্রবাহে প্রতিবন্ধক সকল পাটা, জাল, শেওলা অপসারণ করতে হবে। মানবিক বিপর্যয়রোধে খাদ্য নিরাপত্তা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অপরিকল্পিত ঘের নয়, পানিপ্রবাহের সকল বাঁধা উচ্ছেদ করতে হবে এবং ঘের সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার সমাধানে সামনের মাঘী পূর্ণিমার (৩১ জানুয়ারি) আগেই বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার (টিআরএম-টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনব্যাপী ভবদহ পদযাত্রা ১৬ নভেম্বর ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে শুরু হয়। ভবদহ অঞ্চলের মানবিক বিপর্যয় রোধে খাদ্য-নিরাপত্তা ও চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত ঘের নয়, পানিপ্রবাহে সকল বাঁধা উচ্ছেদ এবং ঘের সংক্রান্ত একটি সরকারি নীতিমালা প্রণয়নসহ ৫ দফা দাবিতে সংগ্রাম কমিটি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে।

SHARE