স্বাধীন বাংলাদেশ আর আওয়ামী লীগের ইতিহাস অভিন্ন: পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছয় দফা ঘোষণা করেন। পরে তার নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ আর আওয়ামী লীগের ইতিহাস অভিন্ন। কিন্তু বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। তার আগেই চক্রান্তকারীরা তাকে হত্যা করে। তবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবারো ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে। সেখানে জাতীয় শ্রমিক লীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’
জাতীয় শ্রমিক লীগের যশোর জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য এসব কথা বলেন। এক যুগ পর শহরের ঈদগাহ ময়দানে যশোর জেলা শাখার সভাপতি কাজী আব্দুস সবুর হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হিসেবে আব্দুল আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাছির উদ্দীন বিজয়ী হন।


বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের উপর ভিত্তি করে বিএনপির জন্ম হয়। এখন পর্যন্ত দলটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থেকে বের হতে পারেনি। তাদের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস। তাদের ইতিহাস অর্থপাচার আর দুর্নীতির ইতিহাস। তারা মিথ্যাচারে দারুণ পটু। জাতিসংঘের চলমান অধিবেশনে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিএনপির নেতারা বলছেন শেখ হাসিনা কিছুই বলেননি। তাদের বিরোধিতা, বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা। বর্তমানে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় অতীতের মতো জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।’
বিশেষ অতিথি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘বর্তমান সরকার উন্নয়নমুখী নানা কর্মকান্ড হাতে নিয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় যশোরে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। যশোর শহরের ৭২টি রাস্তার টেন্ডার শেষ হয়েছে। ভৈরব নদ খননের জন্য ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যশোর মেডিকেল কলেজ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। যশোরে তৈরি করা হয়েছে শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক। যেখানে হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থান হবে। এসব উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য আমাদের যশোরের ছয়টি আসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে হবে। যশোরে জামায়াত-বিএনপির কোন ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ, শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ তাদের প্রতিহত করবে।’
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে শ্রমিক বান্ধব সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সংসদে শ্রম নীতিমালা পাস করেছে। সরকারের নানা কর্মকান্ডে এদেশের জনসংখ্যা জনশক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।’
জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন তা বাস্তবায়ন করেন। ক্ষমতায় আসার আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের বিচার করবেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করেছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট তার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছে তা করে কোন লাভ হবে না। এদেশের জনগণ তাদের সব ষড়যন্ত্র অতীতের মতো প্রতিহত করবে।’
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৬৯ সালে গঠন করা জাতীয় শ্রমিক লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে। তাই যশোরের সম্মেলন শুধু একটি সম্মেলন নয়। এটি নেতাকর্মীদের কাছে আগামী নির্বাচনের জন্য একটি প্রস্তুতি সভা।’
যশোর জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের পরিচালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, কার্যকরী সদস্য বিএম জাফর, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, বর্তমান সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী প্রমুখ।

SHARE