শরণখোলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে জাল দলিল তৈরি অভিযোগের তদন্ত করায় উল্টো সাব-রেজিস্ট্রারকে শো’কজ !

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি জাল দলিলের তদন্ত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার। অভিযুক্ত দু’দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার উল্টো তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার ও তার সহকারীকে শোকজ করেছেন। এ ঘটনায় হতবাক হয়েছেন দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম হওলাদার জানান, উপজেলার রাজৈর গ্রামের নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের পুত্র ফজলুল হক হাওরাদার তার ভাই মোবারেক আলী হাওলাদারের নামে থাকা ৩৮ শতক বসতবাড়ির জমি প্রতারণার মাধ্যমে সম্প্রতি একটি জাল দলিল করেন। পরে দলিল লেখক আঃ রাজ্জাক হাওলাদারের (সাইসেন্স নং-০৭/২০১১) এর যোগসাজোসে গত ২০ জুলাই উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রারের চোখ ফাঁকি দিয়ে জমির প্রকৃত মালিক মোবারেক আলী হাওাদারের পরিবর্তে আলাউদ্দিন খান নামের এক ব্যক্তিকে হাজির করে দলিলটির রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করেন (দলিল নং-১৫৪৫/১৭)। বিষয়টি জানতে পেরে মোবারেক আলীর পুত্র আবুল কালাম হাওলাদার উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ আগষ্ট শরণখোলা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিষ্ট্রার বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযুক্ত লেখক ও সনাক্তকারীসহ সংশ্লিষ্টরা সকলে নিজেদের দোষ স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের বক্তব্যের আলোকে উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অভিযুক্ত ওই লেখকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রারকে সুপারিশ করেন। কিন্তু জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অজ্ঞাত কারনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবাস্থা না নিয়ে উল্টো তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার লুৎফুন নাহার লতা ও তার অফিস সহকারী হারুন আর রশিদকে একটি শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা সাব-রেজিষ্টি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার তদন্তের নামে আইওয়াস করেছেন। কারো কাছে কিছু জানতে না চেয়ে অফিসে এসে চা-নাস্তা খেয়ে চলে যান। তাকে খাম দিয়ে খুশি না করায় রাগ করে ওই দু’জনকে শোকাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বাগেরহাটে চাকুরী করলেও সপ্তাহের ৪/৫ দিন ঢাকায় থাকেন। কেউ ফোন দিলে রিসিভ করেন না। মাসে মাসে খাম দিয়ে যোগাযোগ না করলে ওই সকল অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোষানলে পড়তে হয়। তার মতো ঘুষখোর কর্মকর্তা দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার লুৎফুন নাহার লতা বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকে শোকজ করার বিষয়টি রহস্যজনক। এ ব্যাপারে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার ফজলার রহমানের ০১৭৬৪২১৪৯৩১ নম্বর মুঠোফোনে বার বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয় শরণখোলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আঃ হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক জালাল আহম্মেদ রুমি জানান, উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার ভাল মানুষ। তিনি সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিতি।

SHARE