মিয়ানমারকেই দায় নিতে হবে

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে প্রধানমন্ত্রী সেখানে ত্রাণ বিতরণ করেন। এর আগে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন, আমরা আছি আর্ত-মানবতার সেবায়। গতকাল সকালে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে যান। এরপর হেলিকপ্টারে করে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনে যান। নিতান্তই মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে দিনের পর দিন আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব মিয়ানমারকেই নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন সংস্থার ভাষ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৮ সালে প্রথম রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করে। ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। পরে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তির পর রোহিঙ্গাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যায়। ১৯৯২ সাল থেকেই কুতুপালং ও নয়াপাড়ায় দুটি আশ্রয় শিবির খোলা হয়। সেখানে ৩০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে। এসব নিবন্ধিত রোহিঙ্গার পাশাপাশি দেশে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা আছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ। গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়ন শুরু হয়। ওই দফায় ৯২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। আর এখন সেখানে নতুন করে সহিংসতা চলছে। যার কারণে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, রাখাইন থেকে এবারের সহিংসতায় ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের নিবন্ধন করাও জরুরি। গত সোমবার থেকে সহিংসতার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরীক্ষামূলকভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সব রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গারা যেন নির্দিষ্ট ক্যাম্পেই অবস্থান করে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যেন কষ্ট না হয়, তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ যেন ভাগ্য গড়তে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা নস্যাৎ করে দিতে হবে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। দায় বাংলাদেশের নয়, মিয়ানমারের। কাজেই তাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে রোহিঙ্গাদের।

SHARE