এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল পরিবর্তন করানোর নামে বাঘারপাড়া শিক্ষা অফিসারের ‘উপরি আয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অফিস ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তার কারণেই শিক্ষা অফিসটি দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে।
সূত্র মতে, শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বাঘারপাড়ায় যোগদানের পর থেকে শিক্ষকদের জিম্মি করে এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাজে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন। চলতি বছরে এমপিওভুক্তির জন্য রায়পুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, শহীদ সিরাজউদ্দীন মহাবিদ্যালয়ের দুটি পদের জন্য ২০ হাজার টাকা, খাজুরা ফাযিল মাদরাসার অফিস সহকারীর কাছ থেকে ১০ হাজার, ইন্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মের শিক্ষক পদের জন্য ১৫ হাজার, নারিকেলবাড়িয়া সেবা সংঘ বালিকা বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছ হতে ১০ হাজার, খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুটি পদের জন্য (ইসলাম ও কৃষি) ১৪ হাজার, মাহমুদপুর সিএসসি নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর কাছ হতে ২৭ হাজার, ধলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছ হতে ১০ হাজার, আন্দুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছ হতে ১০ হাজার, বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (বিএসসি) গণিত শিক্ষকের বিএড স্কেল প্রাপ্তির জন্য ৬ হাজার, গাইদঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ হতে বিএড স্কেল প্রাপ্তিতে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
এছাড়া নিজের নামে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই হাজার হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। অসংখ্যা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তিনি এ টাকা আত্মসাত করেছেন। কোন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন না করেই তিনি যাওয়া-আসার টিএ বিল করেছেন। এমনকি অফিস সহকারীর নামে বিল করে তিনি আত্মসাত করেছেন। চলতি বছরে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মা সমাবেশ’ না করেই ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে নামেমাত্র অনুষ্ঠান করে ৩৮ হাজার টাকা ভুয়া বিলের মাধ্যমে তা হজম করেছেন। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তার মুখোশ উম্মোচিত হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, নুর মোহাম্মদ সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিসে আসেন না। তিনি যেদিন অফিসে আসেন, সে দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি বিশ্রাম কক্ষে শুয়ে থাকেন। একজন শিক্ষক জানান, শিক্ষা অফিসার অফিসে না থাকায় ছাত্রছাত্রীর বৃত্তির বিল জুনের আগে জমা হয়নি। এমনকি তার দুটি ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন না। গত মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে তার এ সব বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ অভিযোগ তোলেন। যে বিষয়টি রেজুলেশনে উল্লেখ হয়েছে। চেয়ারম্যানদের অভিযোগের কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নুর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, ‘সমালোচকরা আনেক কথাই বলেন। অফিসে আনেন। বিস্তারিত আলাপ হবে’।

SHARE