মহেশপুরে দু’দিনে ৩৪ ঘন্টার মধ্যে পৌরবাসী বিদ্যুৎ পায়নি ২০ ঘন্টা !

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ॥ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা আর কর্মচারিদের অবহেলায় গত দু’দিনে ৩৪ ঘন্টার মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর এলাকায় ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বরাবরের মতো এবারও জনসাধারণকে অন্ধকারে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবাই মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছিলেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। যেকারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ভ্যাপসা গরম সহ্য করতে হয়েছে। থাকতে হয়েছে টানা অন্ধকারে।
এলাকাবাসির অভিযোগ, গত রোববার বিকাল ৪টার দিকে এলাকায় ঝড় বৃষ্টি বাদেই বিদ্যুৎ চলে যায়। রাত ১২টার কিছু পরে বিদ্যুৎ আসে। আবার সোমবার একটু বৃষ্টি হওয়ার কারণে দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ আসে আবার রাত ১.৪০ মিনিটে। ফলে ৩৪ ঘন্টার মধ্যে মহেশপুর পৌর এলাকা ২০ ঘন্টা অন্ধকারে থাকে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে মহেশপুর আবাসিক প্রকৌশলী অমল কুমার জোয়ার্দ্দারের ০১৭০০৭০৯৮৬০, সহকারী কর্মকর্তা (ইঞ্জিনিয়ার) সাগর আহম্মেদের ০১৯১৭৭২২১৬৩, লাইনম্যান বারেকের ০১৭১৫৫৩৯১১৬ ও লিটন মিয়ার ০১৭১৭০১১৪৭১ নম্বরের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখা হয়। এরমধ্যে রয়েছে দু’কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল নম্বর।
৬নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কাজি আতিয়ার রহমান জানান, দু’দিনে পৌর এলাকায় ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিলো। এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ফোন করেও বিভাগের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। কারন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই তাদের সরকারি নম্বর গুলোসহ লাইনম্যানদেরও নম্বরগুলো বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।
পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান জানান,দু’দিনে ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কখন বিদ্যুৎ আসবে সেটাও জানা সম্ভব হয়নি তাদের ফোন গুলো বন্ধ থাকার কারনে। তিনি আরো জানান, দিনে রাতে এত ঘন ঘন বিদ্যুতের লোড সেডিং এর কারণে সরকারকে বিবৃত অবস্থায় মহেশপুরের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। আর বিদ্যুৎ চলে গেলেই তাদের আর খোঁজ থাকে না।
এবিষয়ে আবাসিক প্রকৌশলী অমল কুমার জোয়ার্দ্দার জানান, রোববার ঝিনাইদহে ঝড় বৃষ্টির কারনে কালীগঞ্জের বিষয়খালী লাইনে ফল্ড ছিল, আর সোমবার বৃষ্টির কারণে মহেশপুর এলাকার জগন্নাথপুর কাটাখালীর কয়েকটি স্থানে পিন ফেঠে যাওয়ায় এ সমস্যার হয়েছির। যেকারণে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

SHARE