মহাসড়কে পিচের উপর ইটের সলিং
যশোর-বেনাপোল, যশোর-খুলনা, যশোর-মাগুরা ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ

সালমান হাসান: যশোরের চারটি মহাসড়কের খানাখন্দ, ভাঙাচোরা ও গর্তে ইট বিছানো হয়েছে। চলাচলের উপযোগী করতে পিচ ঢালা আগের রাস্তাটি এখন ইটের সলিংয়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ইট বিছানো স্থানগুলো কংক্রিটের স্তরের চেয়ে উঁচু হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে আছে যানবাহন চলাচল। এসব স্থানে প্রচন্ড ঝাঁকুনি হচ্ছে; যানবাহন চলছে হেলেদুলে। ছোটখাট যানবাহন উল্টে পড়ার মতন ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ৩৮ কিলোমিটার যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ডালমিল, ঝিকরগাছা বাজার, গদখালি, বেনেয়ালি, নাভারণ বাজারসহ বিভিন্ন অংশের ভাঙাচোরা খানাখন্দ গর্ত ইট বিছিয়ে মেরামত করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এদিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে চাঁচড়া বাজার মোড়, মুড়লি, বকচর, রাজারহাট, বসুন্দিয়া, চেঙ্গুটিয়া, নওয়াপাড়া রেলক্রসিং, ভাঙাগেট, রাজঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইটের সলিং করে সংস্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের যশোর থেকে বারোবাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মধ্যে চুড়ামনকাটি, সাতমাইল ও মান্দারতলার বিভিন্ন স্থানে ইট বিছিয়ে খানাখন্দ ভরাট হয়েছে। এছাড়া যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ২২ কিলোমিটারের মধ্যে পুলেরহাট, হাশিমপুর, লেবুতলা বাজার, মনোহরপুর, সীমাখালি এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইট পেতে সংস্কার করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ ‘দুর্ভোগ কমাতে’ উঠে যাওয়া পিচের স্থানে ইটের সলিং করেছে। যদিও বাসযাত্রীদের দাবি, রাস্তা সংস্কারের নামে ইট বিছানোয় প্রচন্ড দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এবড়ো-থেবড়ো রাস্তায় প্রচন্ড ঝাঁকুনি সহ্য করে বাসে চেপে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। পরিবহন চালকেরাও বলেছেন, এভাবে ইট বিছিয়ে সংস্কারের কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। জাহিদ হোসেন তারেক নামে একটি কুরিয়ার কোম্পানির কাভার্ড ভানের চালক বলেন, যশোর-বেনাপোল রোডে কিছু দূর অন্তর অন্তর ইটের সলিং। যে কারণে খুব সতর্কতার সাথে গাড়ি চালাতে হয়। কারণ দ্রুত গতি নিয়ে এসব সলিংয়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারাবে নিশ্চিত। তিনি বলেন, এ সড়কের পুলেরহাট, ঝিকরগাছা থানার মোড়সহ বেশ কয়েক জায়গায় ইটের সলিং করা হয়েছে। সেখানে মালবোঝাই গাড়ি হেলতে দুলতে থাকে। অসাবধাণ হলেই উল্টে যাবার আশংকা থাকে।
এদিকে এ সড়কের শহরের ডালমিল এলাকায় প্রতিদিন ছোটখাট যানবাহন উল্টে পড়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ লাল্টু, মিন্টু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান, ডালমিল এলাকায় গর্ত ভরাট করতে ইটের সলিং করা হয়েছে। যা কক্রিটের স্তরের চেয়ে অনেক উঁচু। এতে ইজিবাইক চলার সময় একদিকে কাত হয়ে পড়ে। প্রায়শই উল্টে পড়ার ঘটনা ঘটছে। মোহাম্মদ লাল্টু জানান, ঈদের দু’দিন পরে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ইজিবাইক উল্টে তিনিসহ চারজন যাত্রী আহত হন।
ইট বিছিয়ে সংস্কারের বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বড় আকারের গর্ত, ইট কিংবা পাথরের খোয়া দিয়ে ভরাট করে বিটুমিন কার্পেটিং করলে সেটি ৭ থেকে ৮ দিনের বেশি টেকসই হয় না। এছাড়া বর্ষার সময় এসব মহাসড়ক সংস্কার কাজ হওয়ায় বিটুমিনের কাজ করা যায়নি। কারণ বর্ষার দিনে বিটুমিনের কাজ টেকে না। যে কারণে ইটের সলিং করে মহাসড়কের গর্ত ভরাট করা হয়। ইটের হেরিং বন্ডের এ সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয়।


এ ধরনের সংস্কারের বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলী নূরায়েন জানান, দীর্ঘদিন বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় এসব মহাসড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এসব গর্তের কারণে যানবাহন উল্টে পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য ইট বিছিয়ে সংস্কার করা হয়। এছাড়া বর্ষার সময় বিটুমিনের সংস্কার টেকসই হয়না, খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বড় গর্তে বিটুমিন পাথর দিয়ে সংস্কার করলে বেশি দিন টেকে না। সোলিং বা হেরিং বন্ডের সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয়।

 

SHARE