সাতক্ষীরার অ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের জের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে বহুল আলোচিত অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান প্রহৃত

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ ২২ জন শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগ ও এমপিও ভুক্তির নামে লাখ লাখ টাকার অর্থ-বাণিজ্য এবং ডিগ্রি সেকশনের স্বীকৃতি না পেয়ে নিয়োগকৃতদের কাগজপত্র উধাও করার অভিযোগে সাতক্ষীরার অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান ওরফে আক্তারকে বেধড়ক পিটিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে কলেজ চত্বরেই এ মারপিটের ঘটনা ঘটে। প্রহৃত অধ্যক্ষ আক্তার বহুল আলোচিত। তিনি সাইনবোর্ড সর্বস্ব ১৮টি কলেজ গড়ে একইভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কলেজটির দর্শন বিভাগের প্রভাষক সুশান্ত মন্ডল জানান, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের ডিগ্রি সেকশনে তারা ২২জন শিক্ষক কর্মচারি রয়েছেন। যাদের প্রত্যেকেই ১৫-১৬ বছর ধরে চাকরি করছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকেই চাকরিতে যোগদানের সময় অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান ২/৩ লাখ করে টাকা নিয়েছেন। এরপর এমপিওভুক্তির জন্য ফের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০-৬০ হাজার করে টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা নেয়া হয়েছে ডিগ্রি সেকশনের স্বীকৃতির নাম করেও। কিন্তু এতোদিনেও ডিগ্রি সেকশন স্বীকৃতি পায়নি। হঠাৎ করে অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান ডিগ্রি সেকশনের খাতা-পত্র উদাও করে দেন। কলেজের কোথাও ২২জন শিক্ষক-কর্মচারির নাম পর্যন্ত নেই। ১৫ বছরের হাজিরা খাতা তো দূরের কথা। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তরা উত্তেজিত হয়ে তার উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়।
তবে আহত অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান জানান, দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই ক্যাম্পাসের পাশে তার উপর সুশান্ত মন্ডল, নির্মল বৈরাগী, রুহুল আমিন, আবু সুফিয়ান, আব্দুল কাদের, আব্দুল আহাদ, জাহাঙ্গীর নামের ১০-১২ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়েছে।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুধু অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজ নয়, অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে শিক্ষার্থীহীন ১৮টি কলেজ গড়ে তুলেছেন। আর শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ৭-৮ কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সাতক্ষীরায় তিনি শিক্ষাদস্যু আক্তার নামে আলোচিত হয়ে ওঠেন। তার ফাদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে শতাধিক চাকরি প্রার্থী।

SHARE