আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা ॥ পাইকগাছার গড়ইখালী ঘোষখালী (বদ্ধ) নদীর আশপাশের ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। নদীর ৫টি স্থানে পারাপারের জন্য রশি টানা রয়েছে। কোন বৈঠা ছাড়াই নৌকায় ওঠার পর রশি ধরেই পার হয় যাত্রীরা। এভাবেই প্রতিদিন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পারাপার হতে হয়। ব্রীজ না থাকায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় সচেতন মহল সেতু মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে গড়ইখালী অন্যতম। সুন্দরবনের কোল ঘেষেই কয়রা উপজেলার সীমান্তেই ইউনিয়নটির অবস্থান। ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা গত কয়েক বছরের ব্যবধানে কিছুটা উন্নত হলেও অনুন্নত রয়ে গেছে অভ্যন্তরিন যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে রয়েছে ৫/৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘোষখালী (বদ্ধ) নদী। নদীর দু’পারের লোকজনের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। পারাপারের জন্য ৫টি স্থানে পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। যার মধ্যে শান্তা, ফকিরাবাদ, কুমখালী, মসজিদ খেয়াঘাট, কুমখালী হুগলারচক, কলেজ খেয়াঘাট, হুগলারচক কুমখালী, সন্যাসির খেয়াঘাট, আমিরপুর বাইনবাড়িয়া, ক্যাম্প খেয়াঘাট ও কাঁঠালতলা খেয়াঘাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পার হয়। তবে অন্যান্য নদীতে বৈঠার মাধ্যমে পারাপার করা হলেও এখানে রয়েছে ব্যতিক্রম। নদীর দুই ধারে রশি টানা থাকে, নৌকায় চড়ারপর রশি ধরেই পার হতে হয় যাত্রীদের। এভাবেই প্রতিদিন পারাপার নিয়ে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসি। বিশেষ করে নদীর উত্তরপাশে রয়েছে শহীদ আয়ুব ও মুছা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ। এখানেই রয়েছে সমাপনি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র। ফলে পার্শ্ববর্তী কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে স্কুল, কলেজ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। কয়রার হড্ডা গ্রামের কলেজ ছাত্রী ঝুমা মন্ডল জানান, নদী পার হয়ে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করতে হয়। অনেক ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে আহত হতে হয়। আবার কখনো যাত্রী বেশি হলে নৌকা তলিয়ে যায়। ছোট একটি ব্রীজ থাকলে আমাদের মতো শত শত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না বলে জানান শিক্ষার্থী ঝুমা। কুমখালী গ্রামের রমেশচন্দ্র মন্ডল জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মাপামাপি ও সমিক্ষা করেছেন। কিন্তু ব্রীজ করার কোন লক্ষণ আজও পর্যন্ত চোখে পড়েনি। নদীর উপর কমপক্ষে ২/৩টি ব্রীজ নির্মিত হলে এলাকাবাসির দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস। এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও কুমখালী গ্রামের কৃতি সন্তান ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল জানান, এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে নদীর কলেজ খেয়াঘাট ও ক্যাম্প খেয়াঘাট এলাকায় ২টি ব্রীজ নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরেই ১টি ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। স্থানীয়রা বিষয়টিতে সেতু মন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

SHARE