নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের লোহাগড়া থানার সাবেক ওসি, ৫ এসআই, ৩ এএসআই, ৪ কনষ্টেবল, সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বাদি হয়ে সোমবার দুপুরে লোহাগড়া আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, নড়াইলের লোহাগড়া থানার সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার সাহা, এসআই নয়ন পাটোয়ারী, এসআই শিমুল কুমার দাশ, এসআই নাছির উদ্দিন আকন্দ, এসআই মিহির কান্তি পাল ও এসআই শাহিনুর রহমান এবং এএসআই মাসুদুর রহমান, এএসআই তানভীর হোসেন, এএসআই আব্দুল হাকিমসহ চার পুলিশ সদস্য। এছাড়াও আওয়ামীলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম এবং নড়াইল সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মঞ্জুরুল মোর্শেদ মুনকে আসামি করা হয়েছে। বিচারক মামলাটির তদন্তে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আশরাফুল আলমের পক্ষে মতিয়ার রহমান কচুবাড়িয়া এলাকায় প্রচার চালানোর সময় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শেখ শরিফুল ইসলামের ক্যাডার জাহাঙ্গীরকে স্থানীয় জনগন দু’টি পিস্তল এবং ৭ রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ওই দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কাশিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও মামলাটির বাদি মতিয়ার রহমানকে লোহাগড়া থানা পুলিশ ডেকে নিয়ে থানার মধ্যে ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা বেদম মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ থাকলেও কর্মরত চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুল মোর্শেদ মুন রিপোর্টে কোনো আঘাতের চিহৃ নেই বলে উল্লেখ করেন। মতিয়ার রহমান বলেন, কোনো কারন ছাড়াই সেদিন পুলিশ আমাকে বেদম মারধর করে এবং এ কাজে সহায়তা করে আ’লীগ নেতা শেখ শরিফুল ইসলাম। লোহাগড়া থানা মামলা গ্রহণ না করায় আদালতে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা লোহাগড়া থানায় কর্মরত থাকায় ভয়ে মামলা করার সাহস পাননি বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

SHARE