পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিয়ে সাফল্য উদযাপন উত্তর কোরীয় নেতার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সপ্তাহখানেক আগে চালানো ষষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

 

রোববার দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ উদযাপনের খবর ও ছবি প্রকাশ করে, যার ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ধারণা ছিল শনিবার ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সামনে রেখে পিয়ংইয়ং আরও একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে, কিন্তু এ ধরনের কোনো ইঙ্গিতের দেখা মেলেনি; উল্টো নানা আয়োজনে ছুটি উদযাপন করেছে উত্তর কোরীয়রা।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াতে উত্তর কোরিয়া আরেকটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে যাচ্ছে বলে গত সপ্তাহজুড়ে হুঁশিয়ার করে গেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে সোমবার একটি জরুরি বৈঠক ডাকতে বলেছে ওয়াশিংটন।

কেসিএনএ জানায়, গত রোববারের সফল পরীক্ষা উপলক্ষ্যে এক ভোজের আয়োজন করেন কিম যেখানে পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিনন্দিত করা হয়।

কবে এই ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে তা জানায়নি কেসিএনএ, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা শনিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনই এই উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কেসিএনএ-র প্রকাশিত ছবিতে পিয়ংইয়ংয়ের পিপলস থিয়েটারে হাস্যজ্জ্বল কিমের সঙ্গে উল্লাসে মাততে দেখা গেছে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ দুই বিজ্ঞানীকে। এদের মধ্যে রি হং সপ হলেন দেশটির নিউক্লিয়ার উয়েপন ইনস্টিটিউটের প্রধান; আর হং সুং মু ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার মিনেশান ইন্ড্রাস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে তৎপর এই দুই বিজ্ঞানীকে আগেই কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।

পিয়ংইয়ং বলছে, গত সপ্তাহে তাদের চালানো পরীক্ষাটি ছিল উন্নত প্রযুক্তির হাইড্রোজেন বোমার।

এটি হাইড্রোজেন বোমা কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারলেও পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করতে পেরেছে বা এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
“হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা জাতির ইতিহাসে এক মহান ঘটনার জন্ম দিয়েছেন,” রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই বলে কেসিএনএ।

SHARE